৩০ অগাস্ট, ২০২৩ ১১:১৪ এএম

‘দেশে প্রসব-পূর্ব সেবার অবস্থা ভয়াবহ’

‘দেশে প্রসব-পূর্ব সেবার অবস্থা ভয়াবহ’
তারা বলেন, গর্ভবতী মায়েরা মানসম্মত প্রসব-পূর্ব সেবা (কোয়ালিটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার) না পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জন্ম নেওয়া শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

মেডিভয়েস ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে, একজন গর্ভবতী মাকে প্রসব পূর্ব সময়ে অন্তত ৮ বার অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের আওতায় আসার কথা থাকলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আসে ৪ থেকে ৫ বার। ফলে দেশে মানসম্মত প্রসব-পূর্ব সেবা (কোয়ালিটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার) খুবই ভয়াবহ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে দ্য ল্যানসেট সিরিজের আঞ্চলিক উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, গর্ভবতী মায়েরা মানসম্মত প্রসব-পূর্ব সেবা (কোয়ালিটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার) না পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জন্ম নেওয়া শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এর প্রভাবে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৬৬ হাজার মৃত সন্তান প্রসব এবং অপরিণত বা কম ওজনের শিশু জন্ম নেয় ৫২ লাখের মতো।

অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, একজন প্রসূতি মায়ের জন্য অ্যান্টিনেটাল কেয়ার (প্রসব পূর্ব সেবা) অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের যদি আন্ডারওয়েট থাকে, তাহলে দেখা যাবে যে তার গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া শিশুটা জন্ম থেকেই দুর্বল হয়ে জন্মাবে। সেক্ষেত্রে আমরা সকলেই বুঝতে পারি যে, মায়ের যত্নটা কতটা প্রয়োজন। আমরা এখনও এই জায়গাটিতে উন্নতি করতে পারিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১টি অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের আওতায় আসে ৮৮ শতাংশ গর্ভবতী মা, ৪টি অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের আওতায় আসে ৪১ শতাংশ গর্ভবতী মা। এর অধিক সময় অ্যান্টিনেটাল কেয়ারে আসতে আমরা খুব বেশি একটা দেখি না। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন গর্ভবতী মাকে প্রসব পূর্ব সময়ে অন্তত ৮ বার অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের আওতায় আসতে হবে। অর্থাৎ এই জায়গাটায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি।

ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, এই অ্যান্টিনেটাল কেয়ার কি শুধু আয়রন ট্যাবলেট আর টিটি ইনজেকশন? অবশ্যই না। কোয়ালিটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার বলতে আমরা বুঝি, অন্তত পক্ষে মেডিকেলি প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসক অন্তত একবার গর্ভবতী মাকে দেখবেন। এর পাশাপাশি তার ওজন ঠিক আছে কিনা, ব্লাড পেশার দেখা হয়েছে কিনা, ইউরিন টেস্ট করা হয়েছে কিনা, ব্লাড টেস্ট এবং প্রেগনেন্সি নিয়ে কাউন্সিলিং করা হয়েছে কিনা -এই পাঁচটি জিনিস অবশ্যই দেখতে হবে।

তিনি বলেন, একজন মায়ের শুধু গর্ভকালীন যত্ন নিলেই হয় না। গর্ভের পূর্বেই আমাদের তার যত্ন নিতে হবে। বিশেষ করে তার ডায়াবেটিস আছে কিনা, তার ব্লাডপেসার আছে কিনা, অর্থাৎ সে যদি হেলদি অবস্থায় গর্ভকালীন সময়টাতে না আসে, তাকে আপনি প্রেগন্যান্ট অবস্থায় সেবা দিয়ে কতটা কুলাতে পারবেন? কোনোভাবে যদি কোন প্রসূতি মায়ের একটা প্রিম্যাচিউর (এসভিএন টাইপ) শিশু জন্ম হয়, তাহলে সহজেই সে যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যতদিন সে বেঁচে থাকবে ততদিনই তার অনেক বড় বড় রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ল্যানসেট সিরিজে দেখা গেছে অপরিণত ও কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের যে চ্যালেঞ্জ, সেটি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি থাকার পরও অগ্রগতি পর্যাপ্ত নয়। গ্লোবাল নিউট্রিশন টার্গেটের আওতায় ২০১২ সালের বেজলাইন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের হার ৩০ শতাংশে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর এ হ্রাসের মাত্রা মাত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক