২১ অগাস্ট, ২০২৩ ০৯:৪১ পিএম

সিওমেকে রোগীর স্বজনদের ভাঙচুর, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

সিওমেকে রোগীর স্বজনদের ভাঙচুর, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে তেড়ে যায় তারা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষূ এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসাপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে স্বজনেরা। আজ সোমবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একটি ওয়ার্ডে এমন কাণ্ড ঘটে।

এ সময় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে তেড়ে যায় তারা। এ সময় ডা. শাহিদা নুর নিলা ও ডা. ফারজানা আলম শান্তা কর্তব্যরত ছিলেন। 

তারা পাশের মহিলা ওয়ার্ডে চলে গেলে হামলা থেকে রক্ষা পান। এরপর ক্রোধান্বিত স্বজনরা ইউনিট-২ এর ভেতরে চিকিৎসকের কক্ষ ও নার্স স্টেশনে ভাঙচুর চালায়।

এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত একজন আনসার সদস্য আহত হন, তিনি হাসাপাতাল চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনার পর রাতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।

ইচিপ সভাপতি ডা. মো. রাকিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. সীমান্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, আজ ২১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ৩৫ নং ওয়ার্ডে এক অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। রোগীর স্বজন নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী ৩৫ নং ওয়ার্ডে তাণ্ডবলীলা চালায়। তারা ইন্টার্ন ডাক্তারদের ক্রমাগত ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং শারীরিক হেনস্থা করার চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া তারা ডিউটি ডাক্তারের রুম, নার্সেস স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কোনো সুস্থ কর্মপরিবেশ নেই এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। অতীতেও আমাদের সহকর্মীদের সাথে এ রকম ঘটনা ঘটেছে, যার কোনো স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

‘এমতাবস্থায় হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তারদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, দোষীদের বিচারের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করা হলো’, যোগ করা হয় বিবৃতিতে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা কারাতে এসোসিয়েশনে কর্মরত ডা. মোবিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের রাতের পর রাত, দিনের পর দিন কাটে হাসপাতালের ডিউটিতে। মাস শেষে ন্যূনতম বেতনটা ছাড়া আর কোনো সুযোগ-সুবিধা তো নেই, নেই কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নামে মাত্র কিছু আনসার বাহিনী আছেন, যারা দূর হতে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে। রোগীকে বাসায় রেখে কবিরাজ-হুজুরের পানি পড়া খাওয়ায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে তড়িঘড়ি করে নিয়ে আসে। এরপর মারা গেলে ডাক্তারের দোষ, সে কেন বাঁচাতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে ডাক্তারের গায়ে হাত তোলা ভাঙচুরসহ নানা ঘৃণ্য কাজ। পরিচালকের নিকট নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে কালকে হতে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষিত হলো।’

এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক