০৬ জুলাই, ২০২৩ ০৮:২৯ পিএম

বিএসএমএমইউতে শিপ্রা বোসের মরণোত্তর অঙ্গদান

বিএসএমএমইউতে শিপ্রা বোসের মরণোত্তর অঙ্গদান
শিপ্রা বোসের মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) মরণোত্তর অঙ্গদান করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক শিপ্রা বোস। আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ফোয়ারার সামনে শিপ্রা বোসের মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এ সময় বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘মরণোত্তর দেহদান চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখতে পারে। মরণোত্তর দেহদান একটি মহৎ কর্ম এবং পরকালের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের প্লাস্টিনেশন ল্যাবে এই ধরনের দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন মরণোত্তর দেহদানকে উৎসাহিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন ‘শুধু মরণোত্তর দেহদানই নয়, একজন ব্রেনডেথ রোগীর অঙ্গদানের মাধ্যমে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট করে ৮ জন মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়। সেই ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রমকেও উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি প্রথমবারের মতো যারা মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছেন তাদেরকে নিয়ে এবং যারা দেহ দান করেছেন তাদের স্বজনদের নিয়ে একটি বিরল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।’

শিপ্রা বোস দেহদানের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিপ্রা বোসের মত মানবকল্যাণে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে সহযোগিতাকারীদের কৃতজ্ঞ চিত্তে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকবৃন্দ স্মরণ করবে। এখানে যারা মরণোত্তর দেহদান করেছেন এবং এমন দেহদানে অঙ্গীকার করেছেন, তাদেরকে আমরা সম্মানিত করেছি। তাদের জন্য আমরা আলাদা কার্ড করার উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের সম্মান দেখানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বড় বড় কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছি। যাতে অন্যরা মরণোত্তর দেহদানে উৎসাহ পান।’

প্রসঙ্গত, শিপ্রা বোস নব্বইয়ের ছাত্র এবং গণ অভুত্থানের সক্রিয়কর্মী। তিনি দীর্ঘ ১ বছর ক্যান্সারের সাথে লড়াই শেষে গত শনিবার ব্যাংককে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাতিসংঘে সিনিয়র জেন্ডার উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন শিপ্রা। ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণের নেপথ্যের অন্যতম সংগঠক শিপ্রা বোসের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন। মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত