বিএমডিসির বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানালেন ডা. লিয়াকত হোসেন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসা নেওয়া মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রয়াত মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী।
এসব বিষয় নিয়ে আজ রোববার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে বিএমডিসির কার্যালয়ে মেডিভয়েসের সঙ্গে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘প্রয়াত মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এটা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সহজ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যতগুলো অভিযোগ আসে, সবগুলোরই একটা সিরিয়াল নাম্বার রাখা হয়। আমরা শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী অভিযোগগুলো এজেন্ডা হিসেবে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করি। বিভিন্ন কমিটিতে রেজুলেশনগুলো পাশ করাতে হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসক দোষী সাব্যস্ত হলে, বিএমডিসির শাস্তির বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কাজেই এটি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, এর জন্য একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমাদের কাছ থেকে রেজাল্ট পেতে হলে অনেক সময় ৬-৭ মাস লেগে যায়।’
বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘এটা ইচ্ছে করেই হয় না। যেহেতু অভিযোগটা একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সুতরাং এখানে ঐ চিকিৎসক কতটুকু সম্পৃক্ত আছে, অপচিকিৎসা করেছেন কিনা, এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ না করে বিচার করতে পারবো না। সেক্ষেত্রে বাদী-বিবাদী উভয়কেই আমরা ডাকি। হিয়ারিংয়ের জন্য একদিন ডাকা হয়। এসবের উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট তৈরি করা হয়। যদি শৃঙ্খলা কমিটি মনে করে এটার জন্য একটা তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তখন তদন্ত কমিটির কাছে একটা ফাইল চলে যাবে, তদন্ত কমিটি সেসব বিষয় নিয়ে মিটিংয়ে বসবে। সিরিয়ালি ৪-৫টা মিটিংও হতে পারে।’
‘যারা বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যে যুক্ত হন, তাদের সবাই কিন্ত ঐচ্ছিকভাবেই আসেন, তাদেরকে এটার জন্য কোনো পেমেন্ট করা হয় না। সুতরাং সবার সময়, সুযোগ-সুবিধা বুঝেই মিটিং এরেঞ্জ করতে হয়। এক মিটিংয়ে পাশ না হলে, পরবর্তী মিটিংয়ে যেতে পারি না। ফলে সময় একটু বেশি লাগে। এটা কোনো প্রফেশনাল বিচারিক কার্যক্রম নয়। আদালতে সাধারণ কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায় পেতে গেলেও কমপক্ষে দুই-আড়াই বছর লেগে যায়,’ যোগ করেন বিএমডিসি রেজিস্ট্রার।
লাইলেন্স নবায়ন করার প্রসঙ্গে ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘একজন প্রফেশনাল চিকিৎসককে অবশ্যই সময়মতো লাইলেন্স নবায়ন করতে হবে। এই বিষয়টি আমলে নিয়েই প্রফেশনাল কার্যক্রম চালাতে হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন না করা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রতি বছর চিকিৎসকদের নোটিস দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য বলে থাকি, কিন্ত তারপরও অনেকে উদাসীন থাকেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই যারা প্রাক্টিস করতেছেন, তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তারা যখনই লাইসেন্স নবায়ন করতে আসবেন, তাদের জরিমানাগুলো অটোমেটিকভাবে চার্জ করা হবে। তবে অন্য কোনো বিচারকি প্রক্রিয়া বা আইন বিএমডিসির হাতে নেই বলে আমরা কিছু করতে পারছি না। তবে এসব বিষয়ে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে একটি আইন থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের মিটিংয়ে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে।’
চিকিৎসকের দোষ প্রমাণিত হলে কি ধরনের শাস্তি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এর উত্তর দিতে পারবো না। আরেকটি বিষয়, এটি আদালতের বিষয় এবং ইতোমধ্যে দুইজন চিকিৎসক হাজতে রয়েছেন, ওনাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত যদি আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়, তাহলে লাইনআপটা আমরা ঠিক করে দিতে পারবো। এ বিষয়ে আগাম কোনো কিছু বলা উচিত হবে না।’
যদি চিকিৎসকরে অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তাহলে আমর বিচার-বিশ্লেষণ করে কারও ক্ষেত্রে ৬ মাস কারও এক বছর লাইসেন্স বাতিল করে থাকি। অপরাধের মাত্রা বুঝে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিএমডিসি সবসময় রোগীদের পাশে থাকে।’
ডা. মুনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘একজন চিকিৎসককে হঠাৎ করে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা এসে আটক করবে, এটা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। অভিযোগ থাকতেই পারে। অভিযোগের পর যদি দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে শাস্তি দেন, কিন্তু ততটুকু ধৈয্য আমাদের সবার মধ্যেই থাকতে হবে। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’
এএইচ/এসএস
-
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
-
১১ অগাস্ট, ২০২৩
-
১৯ জুলাই, ২০২৩
-
১৮ জুলাই, ২০২৩
-
১৮ জুলাই, ২০২৩
-
১৮ জুলাই, ২০২৩
-
১৮ জুলাই, ২০২৩