১৯ জুন, ২০২৩ ১১:৩৬ এএম

মা-নবজাতকের মৃত্যু: বিচার দাবিতে সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন

মা-নবজাতকের মৃত্যু: বিচার দাবিতে সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন
সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইডেন কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেন্ট্রাল হাসপাতালে মানববন্ধন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর গ্রিন রোডে সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় ইডেন কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা বলেন, আমাদের সহপাঠী মাহবুবা আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় ডা. সংযুক্ত সাহার বিচার চাই। আমরা চাই না, এ ধরনের অবহেলার কারণে আর কোনো মায়ের মৃত্যু হোক। এ ক্ষতি অপূরণীয়। আমাদের বান্ধুবীকে হারিয়েছি, তা কোনো কিছুতেই পূরণ হবে না। তারপরও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

মানববন্ধনে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। এগুলো হলো—জড়িত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা, সেন্ট্রাল হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, আঁখির পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সারাদেশে মনিটরিং সেল গঠন।

মানববন্ধনে শিক্ষারা বলেন, ‘আঁখি তার নবজাতক সন্তান নিয়ে কত স্বপ্নই না দেখেছিল। কিন্তু তা আর হলো না। আমরা তো এমনটা চাইনি। ডা. সংযুক্ত সাহার তত্ত্বাবধানে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ছিলেন না। এটা সুস্পষ্ট প্রতারণা। হাসপাতাল থেকে মাহবুবা আঁখির স্বামীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

ইডেন শিক্ষার্থী নূসরাত কেয়া বলেন, ‘আমরা হারিয়েছি আমাদের সহপাঠীকে। যার প্রতারণার কারণে তার জীবন চলে গেছে, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আঁখির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।’

এ সময় দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ডা. সংযুক্তা সাহার মতো কষাইদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দাবি মানা না হলে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি আবারও মানববন্ধন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলে জানান তিনি। 

রোববার দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখি।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক উল্লেখ করে নরমালে সন্তান প্রসব সম্ভব বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন ডা. সংযুক্তা।

প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়। ওইসময় ডা. সংযুক্তা দেশে ছিলেন না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায়, তিনি আছেন এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) কাজ করছেন।

এদিকে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি।

এ বিষয়ে আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে যখন ওটিতে ঢোকানো হয় এবং নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা শুরু করা হয়, তখনও আমি সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে আছেন কি-না জানতে চাই। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জানতে পেরেছি ডা. সংযুক্তা সাহা ছিলেন না।’

এ ঘটনায় ১৪ জুন ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াকুব আলী। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সেন্ট্রাল হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক