১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০৩:৪৮ পিএম

স্বজন নয়, হাসপাতালে রোগীকে সেবা দিবেন নার্স: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বজন নয়, হাসপাতালে রোগীকে সেবা দিবেন নার্স: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দিনাজপুর সদর হাসপাতাল ও এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বজন নয়, চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালে রোগীকে সেবা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর সদর হাসপাতাল ও এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর এটেনডেন্ট কমিয়ে দিবেন। পৃথিবীর কোথাও রোগীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক এটেনডেন্ট থাকে না। এখানে দেখি একজন রোগীর সঙ্গে দুই-তিন জন করে এটেনডেন্ট থাকে। এতে হাসপাতাল নোংরা হয়, টয়লেটগুলো ভালো থাকে না। সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে।’

রোগীর সেবা চিকিৎিসক-নার্সরা দিবেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটেনডেন্ট যাতে না থাকে নার্সরা খেয়াল রাখবেন। আপনারা রোগীর সঙ্গে থাকবেন, রোগীর সেবা দিবেন। এটিই আপনাদের দায়িত্ব। আমি দেখি রোগীর সেবা এটেনডেন্টরা বেশি দিয়ে থাকেন। এ সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে। এটেনডেন্টতো সেবা দেওয়া কথা নয়,  সে শুধু দেখে চলে যাবে। সেবা দেওয়ার কথা আপনাদের (নার্সদের)। রোগীকে তার পরিবার আপনাদের হাতে দিয়ে গেছে। চিকিৎসক-নার্সরা তাকে দেখবেন। তা ছাড়া স্বজনরা জানেও না কিভাবে রোগীকে দেখভাল করবে।’ 

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজকে সকালে জেলা সদর হাসপাতাল এবং এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখলাম। প্রথমে গিয়েছি ২৫০ বেডের জেলা হাসপাতালে। কাজকর্ম ভালোই চলছে। ওখানে আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়েছি। রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সেবায় সন্তুষ্ট। ওষুধ পাচ্ছেন, খাবার পাচ্ছেন। সেখানে একটি নতুন সংযোজন ও আমরা দেখেছি। সেটি হলো-টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীরা কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তারা সেবা গ্রহণ করছে।’ 

‘সব জায়গায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকে না, কিন্তু রোগীদের পরামর্শের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে ২৫০ বেডে হাসপাতালে আমরা দেখেছি টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এটি অনেক পুরানো হাসপাতাল। প্রায় ৭০-৮০ বছর হয়ে গেছে। নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন। আগামীতে নতুন করে তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। জেলা হাসপাতালে আরেকটি নতুন সংযোজন হলো-১০ বেডের আইসিউ, ১০ বেডের ডায়ালাইসিস সেন্টারের কাজ চলছে, শিগগিরই চালু হবে, যোগ করনে তিনি।’

তিনি বলেন, ‘এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও বিভিন্ন ইউনিটে ঘুরে দেখেছি। সার্জারি ওয়ার্ড, কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট, ক্যথল্যাব ও ডায়ালাইসিস ইউনিটে গিয়েছি। সবগুলো ভালো কাজ করছে। ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন অনেক রোগী। এখানে ডায়ালাইসিস বেড আছে ২৯টি। তিন-চার শিফটে সেবা দেওয়া হয়। বেসরকারিতে একবার ডায়ালাইসিস নিতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরকার। সরকারিভাবে প্রায় বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস করেতে পারেন। খরচ পড়ে মাত্র ৪০০ টাকা। 

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালটির পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ভালো। দিন দিন  রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এটি ৫০০ বেডের হাসপাতাল। বেডে সংকুলান হচ্ছে না। কিছু রোগী বাহিরে আছে। দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার বেডে উন্নীত করা হবে। এ হাসপাতালকেও এক হাজার বেডে উন্নীত করা হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ মেডিকেলে নার্সের সংখ্য ৫১৩, এটি ভালো। তবে চিকিৎসকের সংখ্যা কম আছে। দ্রুত বৃদ্ধি করা হবে। ২০০ এর বেশি মেশিন নষ্ট আছে। এসব মেশিনের দাম হাজার হাজার কোটি টাকা। এগুলো মেরামত করে কাজে লাগানো জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।  প্রয়োজনে আরও নতুন মেশিন কিনবো।’

হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেনো উপস্থিত থাকেন এমন নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালে দেখেছি উপস্থিতি ভালো নয়, উপস্থিতি ভালো থাকলে অনেক কিছু ভালো হয়ে যায়। হাসপাতালে যেন বাহিরের লোক ঘুরা ফেরা না করে। সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক টিটু মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর শামিউল ইসলাম, এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরিচালক, শিক্ষক-চিকিৎসগণ ও সিভিল সার্জন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক