ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।


০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০৬:৫৬ পিএম

শিশুর দৃষ্টিশক্তি বিকাশে করণীয়

শিশুর দৃষ্টিশক্তি বিকাশে করণীয়
গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যান্য যে কোনো কিছুর চেয়ে শিশুরা মানুষের মুখের অবয়ব দেখতেই বেশি পছন্দ করে।

বলা হয়ে থাকে চোখ হলো-আত্মার আয়না ও হৃদয়ের প্রবেশদ্বার, যা আপনার আবেগ এবং অভ্যন্তরীণ সত্তাকে প্রতিফলিত করে। জন্মের পর থেকেই শিশুর শারীরিক-মানসিক এবং আবেগজনিত সব ধরনের বিকাশ হয় তার চোখের সাহায্যে। জন্মের পর পর শিশুরা সাধারণত ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি বেশি দূরের কিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না। তাদের এই দৃষ্টিশক্তির সীমা বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে। নবজাতককে যখন কোলে নেওয়া হয় অথবা আপনি যদি তার খুব কাছে যান, তখন সে আপনাকে দেখতে পায়। তাই একটি শিশুর কাছে আপনার চেহারাটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। এ সময় বেশি বেশি করে শিশুর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবেন, যেন সে আপনাকে ভালো করে দেখতে পায়।

এক মাস বয়স

জন্মের পর প্রথম মাসে একটি শিশু চোখ নাড়িয়ে কিভাবে চারপাশ দেখতে হয়, তার কিছুই জানে না। তাই সে নিয়ন্ত্রিণহীনভাবে চোখ নাড়ায় বা কখনো কখনো চোখ ট্যারাও দেখাতে পারে। এই সময়ে শিশুর খুব কাছাকাছি গিয়ে আপনি যদি নিজের মুখ ধীরে ধীরে এক পাশ থেকে অন্য পাশে নাড়াতে থাকেন, তাহলে দেখবেন শিশুও আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে এবং আপনার সাথে সাথে সেও চোখ নাড়িয়ে আপনার মুভমেন্ট অনুসরণ করছে।

দুই মাস বয়স

শিশু জন্মের পর দুই মাস বয়স থেকে সব ধরনের রং দেখতে পেলেও বিভিন্ন রঙের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য করতে পারেনা। এই সময়ে শিশুর দৃষ্টিশক্তি এবং রঙের পার্থক্য শেখানোর জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের ছবির বই, ছবি এবং রঙ্গিন খেলনা দিয়ে উৎসাহ দেয়া যেতে পারে।

চার মাস বয়স 

এ বয়সে শিশুর হাত বাড়ানোর মতো পেশি সঞ্চালনের ক্ষমতা গঠিত হতে থাকে এবং হাত বাড়িয়ে কোন জিনিস ধরার কাজটি সুষ্ঠুভাবে কিভাবে সম্পন্ন করতে হবে, তার মস্তিষ্ক সেটা বুঝে ওঠার মত পরিপক্ক হয়ে যায়। সাধারণত এ বয়স থেকেই শিশুরা মায়ের চুল, কানের দুল ইত্যাদি ধরে টান দিতে চেষ্টা করে। এই সময়ে খুব সহজেই ধরা যায় এমন কোন নিরাপদ খেলনা শিশুর হাতে দিয়ে, তার ক্রমবিকাশে সাহায্য করতে পারেন।

পাঁচ মাস বয়স

এই বয়সে শিশু বস্তুর আকার বুঝতে শুরু করে এবং বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। সেই সাথে যে কোন বস্তুকে তার চোখ দিয়ে অনুসরণ করতে শুরু করে। এমনকি এই বয়সে অনেক শিশু যে কোন কিছুর ছোট্ট একটি অংশ দেখেই সে বস্তুকে চিনে ফেলতে পারে। এইজন্য এই বয়সেই শিশুর সাথে যখন আপনি লুকোচুরি খেলেন, সেটা সে খুবই পছন্দ করে। এ বয়সে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের রঙের পার্থক্য আলাদা করে বুঝতে শিখে যায়।

৮ মাস বয়স

এ বয়সে এসে শিশু দৃষ্টিশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে। যদিও কাছে থাকা জিনিসের প্রতি তার আকর্ষণ একটু বেশিই থাকে তবুও সে রুমের অন্যপ্রান্তে থাকা কোনো মানুষ এবং জিনিসপত্রের অবস্থান বুঝতে পারে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যান্য যে কোনো কিছুর চেয়ে শিশুরা মানুষের মুখের অবয়ব দেখতেই বেশি পছন্দ করে। তাই যতটা সম্ভব শিশুর কাছাকাছি থেকে শিশুকে আপনার চেহারা দেখার সুযোগ করে দিন এবং আই কন্টাক্ট করুন। শিশুর বয়স যখন প্রায় এক মাসের মত হয়ে যায়, তখন শিশুর চোখের সামনে আপনি যাই আনুন না কেন, সেটি সে খুব উৎসাহ নিয়ে দেখবে। তাই এই সময় গৃহস্থালির সাধারণ জিনিসপত্র অথবা খেলনা শিশুর কাছে নিয়ে তাকে দেখার সুযোগ করে দিন।

কোনো ঝুনঝুনি অথবা উজ্জ্বল কোনো বস্তু শিশুর চোখের সামনে ধরে একপাশ থেকে অন্য পাশে নিন তারপর তা উপর থেকে নিচের দিকে এবং পুনরায় আবার নিচ থেকে উপরের দিকে নিয়ে আসুন। এই নড়াচড়া তাকে আকৃষ্ট করবে। যদিও ৩-৪ মাসের আগে বেশিরভাগ শিশুই উপর থেকে নিচের দিকের নাড়াচাড়া ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেনা । এ ছাড়া আশেপাশের কোন কোন বস্তু তাকে আকৃষ্ট করে, সেটা খেয়াল করুন। যেমন- ফ্যান, পাখি বা বাগানে পাতার নড়াচড়া ইত্যাদি। শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে তখন তার সামনে প্রাথমিক যে রঙগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আসুন। এ ছাড়া প্রাইমারি রঙের খেলনা, রঙ্গিন পোস্টার অথবা যেসব বইয়ে প্রচুর ছবি আছে, সেগুলোও শিশুকে দেখতে দিন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চোখের দৃষ্টি
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত