ডা. আব্দুন নূর তূষার

ডা. আব্দুন নূর তূষার

উপদেষ্টা, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)

সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০২:৪৬ পিএম

ডাক্তার কেন গ্রামে থাকে না

ডাক্তার কেন গ্রামে থাকে না
অনেক জায়গায় ডাক্তারদের আবাসন দেখলে মনে হয়, মোগল আমলের ধ্বংসাবশেষ।

২০১৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বলেছিলেন যে, সার্ভে করে দেখতে ডাক্তাররা কেন কর্মস্থলে যেতে চায় না বা থাকে না। তারপর সমস্যা দুর করতে বলেছিলেন। আর বলেছিলেন এরপরেও না থাকলে ব্যবস্থা নিতে।

রোমেন রায়হানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগ একটি গবেষণা করেছে।

২০২০ সালে কোভিডের সময় গল্পচ্ছলে আমি রোমেনকে বলি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নির্দেশনাটি কেউ তামিল করছে না। অথচ ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঠিকই নিচ্ছে। কেউ জানতে চাইলো না ডাক্তার কেন থাকে না।

রোমেন গবেষণায় হাত দেয়। তার বিভাগ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় এই গবেষণাটি সমাপ্ত করেছে। ডাক্তারদের কর্মস্থলে কি ধরনের অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়, এই বিষয়টি এখন গবেষণায় প্রমাণিত।

প্রথমত, অধিকাংশ অবকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত হতদরিদ্র। রোগীরা আসে একগাদা আত্মীয়স্বজন সহ। অথচ ইমারজেন্সি রুমের যা আকৃতি, তাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই সেখানে ভালোভাবে রাখা যায় না। বসার জায়গা ও চেয়ারের বন্দোবস্ত করুণ। প্রেসক্রিপশনের কাগজ কলম যথেষ্ট না। কোথাও কোথাও একরুমে বসে দুজন ডাক্তার রোগী দেখেন, যেটি রোগীর গোপনীয়তার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি করোনার সময় সবজায়গায় পালস অক্সিমিটার ছিলো না। পিপিই সংকট ছিলো। ইসিজি ও আলট্রাসাউন্ড নাই শতকারা চল্লিশভাগেরও বেশি জায়গায়। ইসিজি মেশিন নষ্ট হলে দ্রুত সারানোর ব্যবস্থা নাই। মেশিন ভালো থাকলেও একজন মাত্র টেকনিশিয়ান।

অথচ ইসিজি একটি জরুরি পরীক্ষা। ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা উচিত। একজন টেকনিশিয়ান থাকার ফলে ৮ ঘণ্টার বেশি ইসিজি করা যায় না। রোগীর পরিমাণ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার চেয়ে দুই থেকে তিনগুন বেশি। ঔষধ রিএজেন্টের সংকট লেগেই থাকে। এক্সরে মেশিন ও আলট্রাসাউন্ডের মতো ভোল্টেজ সংবেদনশীল যন্ত্রগুলি বিদ্যুত সরবরাহের ভোল্টেজ ত্রুটির জন্য কাজ করে না। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নাই বহু জায়গায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অকেজো অথবা যথেষ্ট না। অনেক জায়গায় বিজ্ঞানসম্মত না।

এই হলো হাসপাতালের অবকাঠামোর অবস্থা। ডাক্তার ও রোগীদের বাথরুমের অবস্থা জঘন্য। নারী পুরুষের জন্য যথেষ্ট প্রাইভেসি নেই। ডাক্তারদের ডরমিটরিগুলোর অনেকগুলোই শোচনীয়। অনেক জায়গায় ডাক্তারদের আবাসন দেখলে মনে হয়, মোগল আমলের ধ্বংসাবশেষ। এটা হলো শুধু অবকাঠামোগত একটি সমস্যা।

আরো আছে। আপাতত দেখেন। ছবিও আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কাজটি হওয়াতে ডাক্তারদের কি অবস্থা হয়, সেটা এখন তথ্য প্রমাণসহ বলা যাবে। শুধু তাই না, এই অবস্থায় আর কোনো সরকারি কর্মচারী কাজ করে কিনা সেই প্রশ্নও করা যাবে। বাকি অংশ পরে। আপাতত ছবি দেখেন অবকাঠামোর। 

এবার বলেন, ডাক্তার কেনো থাকে না? খালি আঙুলের ছাপ দেখেন। দুদক পাঠান। দুদক ভাইরা ওখানে গিয়ে ডাক্তারদের সাথে সাতদিন থেকে উৎসাহ দেবেন? টয়লেটের ছবিগুলোর জন্য দুঃখিত। উপায় ছিলো না। ছবিগুলো না দেখে যাবেন না।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিভিন্ন মেডিকেলের

বর্ধিত ভাতা পাচ্ছেন ৭ বেসরকারি মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত