১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৪৮ পিএম

সলিমুল্লাহর পর ঢামেকে লিভার ক্যান্সারের টেইস চিকিৎসা শুরু

সলিমুল্লাহর পর ঢামেকে লিভার ক্যান্সারের টেইস চিকিৎসা শুরু
এই চিকিৎসা পদ্ধতির ফলে রোগীর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে একজন রোগীর সম্পূর্ণ আরোগ্য করে তোলা সম্ভব না, তবে রোগীর অসুখটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আসাদুল ইসলাম দুলাল: স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পর এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শুরু হয়েছে লিভার ক্যান্সার রোগীদের সর্বাধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তির চিকিৎসা ট্রান্স আরটারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন (টেইস)। বর্তমানে বিশ্বে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত কার্যকর এক পদ্ধতি, যার কল্যাণে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর জীবন সুরক্ষা পায়।

আজ (১৮ ডিসেম্বর) রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের ক্যাথল্যাবে এই চিকিৎসার সফল প্রয়োগ হয়।

ঢামেকের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান ও এ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগে নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ আজ সন্ধ্যায় মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পঞ্চাশোর্ধ্ব এক রোগীর ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে টেইস চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে একান্তভাবে সঙ্গে ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফজল করিম। তাঁর নেতৃত্বেই গত ১৫ ডিসেম্বর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে সরকারিভাবে দেশের প্রথম টেইস চিকিৎসা পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়।

এ চিকিৎসা কার্যক্রমে তাঁর সহযোগী হিসেবে ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সুমন রানা। এই পদ্ধতি প্রয়োগের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাঈদুল হক, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসেন মো. শাহেদ। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার ডা. আবুল হাসান মানিক ও ডা. কাইয়ূম ও এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী ডা. সাদ আহমেদ তন্ময়।

রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে অধ্যাপক ফারুক আহমেদ জানান, ‘রোগী হাসপাতালের ওয়ার্ডে আমাদের তত্ত্বাবধানে আছেন। এই পদ্ধতির সম্পন্ন হওয়ার আধ ঘণ্টা পর রোগী কথা বলেছেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্বাভাবিক।’

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই চিকিৎসা পদ্ধতির ফলে রোগীর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে একজন রোগীর সম্পূর্ণ আরোগ্য করে তোলা সম্ভব না, তবে রোগীর অসুখটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ পদ্ধতিতে রক্তনালীর মাধ্যমে সরাসরি লিভারে যে স্থানে টিউমার থাকে, সেখানে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। যেন সেই টিউমারটা আর রক্ত স্ঞ্চালন করতে না পারে। যা পরে রক্ত চলাচলের স্বল্পতার ফলে টিউমারটা ছোট হয়ে যায়। এটা হচ্ছে চিকিৎসার মূল পদ্ধতি।

অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে ডা. ফারুক আহমেদ জানান, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর লিভার ক্যান্সার এন্ড রিসার্চের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. সেলিমুর রহমানের ভূমিকা যথেষ্ট সহায়ক ছিল। এর পর ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হকের অনুপ্রেরণায় ঢামেক হাসপাতালে প্রথম সরকারিভাবে এ পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়।

চিকিৎসার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, আমাদের বিভাগে ক্যাথল্যাব নেই। তবে ভবিষ্যতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট চাওয়া হবে। তখন আমাদের সাধ্যমতো কাজ করতে পারবো। এক্ষেত্রে মাসে ৮-১০টি রোগীকে টেইস চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

চিকিৎসায় খরচ সম্পর্কে তিনি আরও জানান, ঢামেকে টেইস পদ্ধতি চিকিৎসায় সব মিলিয়ে আনুমানিক এক লাখ টাকা খরচ হবে। তবে ন্যূনতম ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে। বেসরকারিভাবে ভর্তি ছাড়া দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নাজমুল হক মেডিভয়েসকে বলেন, আমাদের দেশে ট্রান্স আরটারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন (টেইস) নেই বললেই চলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এ সেবা চালু হয়েছে। আমরা এই সেবার মাধ্যমে লিভার ক্যান্সার রোগীদের আরও কয়েক বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করতে পারবো। আশা করি, যারা লিভার ক্যান্সার নিয়ে হতাশায় আছেন, তাদের জন্য আমাদের এই সেবা বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশেও যে এমন চিকিৎসা হচ্ছে সেটা আমরা গর্বের সঙ্গে জানাতে চাই। 

এ চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য নিজেদের সক্ষমতা প্রসঙ্গে ঢামেক পরিচালক বলেন, যেহেতু আমরা এটা প্রথমবারের মতো চালু করেছি, তাই এ কাজে যারা অভিজ্ঞ তাদের উপস্থিতিতে আমরা অস্ত্রোপচারটা শুরু করেছি। আজকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. ফজল করিমসহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে প্রথম কাজটা সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটা কাজ সফলভাবে হয়ে গেলে তখন হয়তো আমরা এককভাবে করতে পারবো। এই পদ্ধতির জন্য ক্যাথল্যাবের প্রয়োজন হয়, আমাদের প্রথম কাজের জন্য নিউরোক্যাথল্যাবের ব্যবহার করেছি। ক্যাথল্যাবে তো অন্য কাজও হয়। সুতরাং লিভার ক্যান্সার রোগী বেশি হলে আমরা আলাদা একটি ক্যাথল্যাব বসানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা দেবো। 

এ চিকিৎসা পদ্ধতি দীর্ঘদিনের অপ্রতুলতা কাটিয়ে তুলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরু হলো। দেখি, কেমন সারা পাই, মানুষের কেমন উপকারে আসে। এর পর আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে। লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরেই একটা অপ্রতুলতা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বলবো, একটা পরিবর্তন নিয়ে আসতে পেরেছি এবং আমরা অনেক অনেক অশাবাদী।

এআইডি/এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক