১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৩:১৬ পিএম

আত্মহত্যার অন্যতম কারণ একাকিত্ব: বিএসএমএমইউ ভিসি

আত্মহত্যার অন্যতম কারণ একাকিত্ব: বিএসএমএমইউ ভিসি
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ১৫-৩০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ইগো বেশি থাকে। এই বয়সে ইগো বেশি থাকায় আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি থাকে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একাকিত্ব থাকার সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অনেকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিএসএমএমইউ‘র মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সুইসাইড ক্লিনিকের উদ্যোগে ‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো’ স্লোগান সামনে রেখে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, একাকিত্ব থাকার সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অনেকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আবেগের কারণে ছেলে-মেয়েরা প্রেম ভালোবাসার দিকে ঝুঁকে পড়ে। প্রেম-ভালোবাসাজনিত বিচ্ছেদের কারণেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আত্মহত্যার আরেক কারণ ইগো ও ডিপ্রেশন উল্লেখ করে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, আত্মহত্যা হলো ইনটেনশনালি নিজেকে মেরে ফেলা। ইদানিং ডিপ্রেশন বেড়ে গেছে। করোনায় অনেকের ডিপ্রেশনের কারণে ব্লাড প্রেশারও বেড়ে গেছে, ডায়াবেটিস যাদের ছিল না তাদেরও ডায়াবেটিকস হয়েছে, চোখের পাওয়ার বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ১৫-৩০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ইগো বেশি থাকে। এই বয়সে ইগো বেশি থাকায় আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি থাকে। বাবা-মা অথবা অভিভাবকদের এ বয়সী ছেলেমেয়েদের সময় দিতে হবে, খোঁজ-খবর রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জেনেটিক কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে। পরিবারের মধ্যে কারও যদি এ ধরনের প্রবণতা থাকে তাদের এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সুইসাইড ক্লিনিকের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. মহসীন আলী শাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. সিফাত-ই-সাইদ। 

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, এনডিডি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী এবং এটিসিবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার। 

এ ছাড়া সেমিনারে ‘ম্যানেজমেন্ট অব সুইসাইড সারভাইভারস’ এর ওপর প্যানেলিস্ট হিসেবে বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. এম মুহিত কামাল আলোচনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা জহুরা, সমন্বয় করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম আতিকুর রহমান।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত