রেসিডেন্সিতে বর্ধিত ভাতা: নতুন বাজেটেও নেই সুখবর
মো. মনির উদ্দিন: সুপার স্টেশালাইজড হাসপাতাল চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে গতবারের তুলনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) প্রায় ৬০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ফলে জুনের বাজেটেও যুক্ত হয়নি বিএসএমএমইউ ও অধিভুক্ত ইনস্টিটিউটগুলোতে অধ্যয়নরত রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বর্ধিত ভাতা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসএমএমইউ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গত বছরের বাজেট ছিল ২৬০ কোটি টাকা। এ বছর এখানে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু হবে। এবারের বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মন্ত্রণালয় আমাদেরকে ৬০ কোটি টাকা বেশি দিচ্ছে। এ কারণে তাঁরা এ বছর এর বাইরে আর বাজেট দিতে রাজি হয়নি। আমি আমার গবেষণা খাতেও ২০ কোটি টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তা যুক্ত করতে পারিনি। যেহেতু এরই মধ্যে তারা আমাদেরকে বাজেটে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে। আমরা আগামী বছর চেষ্টা করবো, যাতে রেসিডেন্টদের বর্ধিত ভাতা চালু করা যায়। বেশ কিছু দিন আগে এটি সিন্ডিকেটে পাস হলেও এখনো এটি কার্যকর হয়নি।’
কোর্সে অধ্যয়নরতদের মানবেতর জীবন-যাপনের কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘এক সময় এ কোর্সে এক টাকাও দেওয়া হতো না। তারা যাতে বাইরে মনোযোগ না দেয়, সেজন্য তাদেরকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এটা এজন্য দেওয়া হচ্ছে যে, রেসিডেন্সি কোর্স মানে ২৪ আওয়ারস ডিউটি। ফলে সে অন্য কোনো চিন্তাই করবে না। প্রথমে ১০ হাজার, পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আমাদের চেষ্টা আছে, এটা ৩০ হাজার টাকা করার। আমাদের চাহিদার সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সম্মতির ব্যাপার আছে। সব কিছু মিলিয়েই বিষয়টি হতে হয়। আমাদের চেষ্টা চলমান আছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত মন্ত্রণালয়কে রাজি করিয়ে এটা কার্যকর করতে পারিনি। এটা হলো, বাস্তব চিত্র।’
শুধু রেসিডেন্সি কোর্সের বর্ধিত ভাতা নয়, বরং এ বছর বাড়তি টাকা দেওয়ার কারণে গবেষণা, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দে মন্ত্রণালয়কে রাজি করানো যায়নি বলেও জানান তিনি।
তবে সংশোধিত বাজেটে বর্ধিত ভাতা চালুর জোর চেষ্টা থাকবে জানিয়ে অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ওই বাজেটে তারা যেন আমাদের এসব চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করেন। রিভাইজড বাজেট আগামী নভেম্বরে-ডিসেম্বরে হবে। ওই সময় এটা নিয়ে চেষ্টা চলবে।’
ভাইস চ্যান্সেলর যা বললেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তারা ২০ হাজার করে পাচ্ছেন। বর্ধিত ভাতা এ বাজেটে হবে না। আমরা চাইলেই তো হবে না। সরকারের তো বরাদ্দ দিতে হবে।’
২০২০ সালের গত ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে রেসিডেন্টদের ভাতা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। পরে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে পাস হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছরেও বর্ধিত ভাতা না পাওয়ায় গভীর হতাশায় দিন পার করছেন রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা।
দুর্মূল্যের বাজারে ২০ হাজার টাকায় সংসার চালানো সীমাহীন কষ্টসাধ্য হওয়ায় অনেকে কোর্স ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে কোর্স ছেড়ে দিলে পারিতোষিক ফেরত দেওয়ার নির্দেশনায় থাকায় এ পথে হাঁটতে পারছেন না তারা।
জীবনযাত্রার ব্যয়ে ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকে কোর্সে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে নিচ্ছেন অনেক হিসাবি ও সাবধানী পদক্ষেপ।
এর আগে বিএসএমএমইউ ও এর অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেসরকারি রেসিডেন্টদের ভাতা দ্বিগুণ করা হয়। পাঁচ বছরের রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত এসব চিকিৎসক প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পারিতোষিক পেতেন। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে তাঁদের ভাতা ২০ হাজার টাকা করা হয়।