ইউক্রেনে যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসায় ‘হাসপাতাল ট্রেন’
মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রায় দুই মাস আগেও ইউরোপের অন্য শহরগুলোর মতোই মানুষের কর্মচঞ্চলে মুখর ছিল ইউক্রেনের শহরগুলো । রাশিয়ার হামলার পর বদলে গেছে সব। সেখানকার মানুষদের নেই পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ এবং জীবনের নিরাপত্তা।
রুশ বাহীনির হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে আহত মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন কানাডিয়ান চিকিৎসক ড্যানিয়েল স্নোর ও তার সংগঠন ‘ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স’ এমএসএফ। বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন স্থানীয় রোগশোকের বিরূদ্ধে কাজ করার জন্য এ সংগঠনটি বিশেষভাবে পরিচিত।
ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিউপোলি থেকে পালিয়ে আসা অনেক আহত ইউক্রেনি আশ্রয় নেয় জপুরিজিয়া শহরে। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে জায়গা সংকুলন না থাকায় আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আর তখনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এমএসএফ। তাদের উদ্যোগে ইউক্রেন যুদ্ধে আহত এবং বয়স্কদের চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চালু করা হয় বিশেষ ‘হাসপাতাল ট্রেন’। এখন পর্যন্ত চারটি ট্রেন চালু করেছে এমএসএফ।
এমএসএফ কর্তৃপক্ষ বলেছে, যখন আমরা এ ধরনের কাজ শুরু করি তখন লক্ষ্য ছিল কোথায় সবচেয়ে বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারি। একই সাথে চেষ্টা করেছি কিভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ কমানো যায়।
হাসপাতাল ট্রেনটি সর্বপ্রথম ৩১ মার্চ বিস্ফোরণে আহত ৯ জনকে নিয়ে দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল জপুরিজিয়া থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরের লভিবে পৈাঁছায়। এ হাসপাতাল তৈরির জন্য ট্রেনের কামরাগুলো নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল। একইসাথে ব্যবস্থা করা হয় আক্সিজেন ও চিকিৎসার অন্যান্য সরঞ্জামের। আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে এ ট্রেনে।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের পদক্ষেপকে নিজেদের জন্য হুমকি ঘোষণা দিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা শুরু করে রাশিয়া। পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি রুশ বাহিনী। তবে মস্কো বলে আসছে, পরিকল্পনা অনুযায়ীই তাদের এই ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ অব্যাহত রয়েছে।