বইমেলায় ডা. রাজ কামাল আহমেদের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রাত্রির যাত্রী’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসছে ডা. রাজ কামাল আহমেদের প্রথম গল্প গ্রন্থ ‘রাত্রির যাত্রী’। গৌরব প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটিতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের ১৫টি গল্প। এসব গল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে নেট দুনিয়ার কুফলের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় বিষয়ে একাধিক বার্তা।
গল্প গ্রন্থের ভিন্নতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা. রাজ কামাল আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রাত্রির যাত্রী বইয়ে স্থান পেয়েছে জীবনমুখী কিছু গল্প। এগুলো ভৌতিক, রোমান্টিক ও রম্য গল্প। বাস্তবধর্মী প্রতিটি গল্পেই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাবেন পাঠক। এতে জায়গা পেয়েছে নেট দুনিয়ার কুফল সম্পর্কিত একটি গল্প। জীবন ঘনিষ্ট গল্পটিতে টিনএজার মেয়েদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও কুফল সম্পর্কে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। রম্যগুলোতে গল্প-রসের মিশেলে কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে এখানে এমন কিছু গল্পের সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে, যা পড়ার সাথে সাথে পাঠকবৃন্দ এর চমৎকারিত্বে অভিভূত হবেন, অনুভব করবেন ভিন্নতা।
বইয়ের উপজীব্য
ডা. রাজ কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সমাজে অন্ধকার জগতের যে ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে, কিংবা যেসব নেতিবাচকতার মাঝখান দিয়ে আমরা যাচ্ছি, বইটিতে এগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের হিংস্রতা, মূল্যবোধ বা সামাজিক অবক্ষয়, ইন্টারনেটের খারাপ প্রভাবে নৈতিক অবক্ষয়, ঘুষ-দুর্নীতির মতো নীতিহীনতা। রম্য গল্পের মাধ্যমে সমাজের কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি সতকর্তামূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। রয়েছে কিছু রোমান্টিক গল্পও।
তিনি আরও বলেন, মানুষ রহস্যময় আবার তার জীবনও রহস্যময়। রহস্যময়তা নিয়েই মানুষের বেঁচে থাকা, নিরন্তর ছুটে চলা। জীবনে চলার বাঁকে বাঁকে মানুষ বহুরূপে আবির্ভূত হয়, বহু প্রতিকূলতা ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। জীবন ও সময়ের ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু মানুষ মাঝে মাঝে হিংস্র শ্বাপদের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। কেউ কেউ সেই ভয়ঙ্কর মানুষের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়, আবার অনেকের জীবন নাশও হয়।
‘অনেক মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, সেসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যের কুশীলবরাও কখনো সুখী হতে পারে না, তাদের পরিণাম হয় ভয়াবহ। কেউ কেউ অন্যের সর্বনাশ করতে গিয়ে নিজেরাই সর্বনাশের গহ্বরে পতিত হয়। অনেকে নিজেদের ভালোবাসার মানুষ এবং অতি আপনজন দ্বারা প্রতারিত হয়। অনেক মানুষ আছে, যারা টাকার পাহাড় গড়তে নিজেদের বিবেক, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেয়, হয়ে উঠে নৃশংস’, যোগ করেন তিনি।
ডা. রাজ কামাল বলেন, দুঃখ কষ্টের পাশাপাশি মানুষের জীবনে এমন কিছু হাস্যকর ঘটনা ঘটে, যেগুলো অনেক কৌতুকের চেয়েও হাসির। মাঝে মাঝে কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে, যেগুলো মানুষের কল্পনা শক্তিকেও হার মানায়। সেসব ঘটনাসমূহ মানবিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যারও অতীত। ‘রাত্রির যাত্রী’ বইয়ের পরতে পরতে সেই সব কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। জীবনঘনিষ্ঠ ও জীবনমুখী এই সব কাহিনী পড়ে পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ চমৎকৃত হবেন, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও পাবেন।
প্রচ্ছদ ও নামকরণ
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ১৯৯৬-৯৭ সেশনের এ শিক্ষার্থী বলেন, প্রচ্ছদটা প্রতীকী করা হয়েছে। রাত্রিকালীন কিছু গল্প এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। ওই সময় সাধারণত মানুষের একাংশের অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। এ ছাড়া ভৌতিক বিষয়গুলোও অন্ধকারের নিরবতায় ঘটে থাকে। বইয়ে এসব উপাদানের প্রাধান্যের কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে রাত্রির যাত্রী। অন্ধকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকে নানা রহস্য। গল্পগুলো পড়ে পাঠক মন এই সহস্য উন্মোচনে উদগ্রীব হয়ে পড়বে। এই রহস্যই প্রচ্ছদে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও রাত্রির যাত্রী নামে একটি গল্প স্থান পেয়েছে বইটিতে। মূলত এই নাম থেকে বইটির নামকরণ করা হয়েছে।
লেখালেখিতে আসা যেভাবে
লেখালেখির ইতিহাস তুলে ধরে ডা. রাজ কামাল আহমেদ বলেন, ‘মূলত ছোট বেলা থেকেই আমার লেখালেখিতে হাতেখড়ি। তিন গোয়েন্দা সিরিজসহ ক্ল্যাসিক কিছু বই পড়েছি। শিশুতোষ কিছু পত্রিকা পড়তাম। এসব বই পড়া থেকে মূলত লেখালিখিতে আগ্রহ তৈরি হয়। ওই সময় শিশুতোষ পত্রিকায় আমার কিছু লেখা ছাপা হয়েছে। ছাপার হরফে নিজের নাম দেখে খুবই ভালো লাগতো। মেডিকেলে পড়ালেখার চাপটা নিঃসন্দেহে বেশি। সেই সময় আমার লেখালেখিতে খানিকটা ভাটা পড়ে।’
যাত্রির যাত্রী বই লেখার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনায় দায়িত্ব পালনের সময় কোয়ারেন্টাইনের কল্যাণে কিছুটা অবসর মেলে, ওই সময় কিছু লেখা বের হয়ে আসে। এর আগেও কিছু লেখা আমি লিখেছি। কিন্তু এভাবে গ্রন্থে রূপ দেওয়া যায়নি। এবার মনে হলো, আমার একটি বই বের হওয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষকে একটি বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।’
ডা. রাজ কামালের বেড়ে ওঠা
সিরাজগঞ্জের সন্তান রাজ কামাল আহমেদ জেলার সদর উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ চুকান। তার পর সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। ২০০৪ সালের জানুয়ারি এমবিবিএস সম্পন্ন করেন ১৯৯৬-৯৭ সেশনের এ শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে অর্থোপেডিক্স সার্জারিতে (ডি-অর্থো) পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেসিডেন্ট সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাঁর পিতা মো. মোকাররম হোসেন পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক, মা বুলু খাতুন একজন গৃহিণী।
এমইউ
-
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
-
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
-
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
-
৩১ জানুয়ারী, ২০২৪
-
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
সাহিত্য চর্চায় সুযোগের জন্য সাবজেক্ট পরিবর্তন করি
পরিমার্জন-পরিবর্ধনে শুদ্ধতম সাহিত্যই কবিতা: ডা. হারিসুল হক
-
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
-
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩