বই মেলায় সাংবাদিক শফিউল্লাহর বই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অমর একুশে বইমেলায় এসেছে সাংবাদিক মুহাম্মাদ শফিউল্লাহর নতুন বই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন।’ এই বইয়ে লেখক তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’। বইটি প্রকাশ করছে ঐতিহ্য প্রকাশনী এবং এতে রয়েছে শফিউল্লাহর সাংবাদিক জীবনের এক বিশেষ জবানবন্দিমূলক বর্ণনা। ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ মূল্য ধরা হয়েছে তিনশ’ সত্তর টাকা। বইমেলায় স্টল নং ৫৮১-৫৮৬। এর আগে তার প্রথম ছোটগল্পের গ্রন্থ ‘আসমত আলীর অনশন’ প্রকাশিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু
জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন’ বইটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কিংবা তত্ত্বের পরিবর্তে একজন সাংবাদিকের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলি প্রত্যক্ষ করার সময়ের চিত্র ফুটে উঠেছে এই বইয়ে। লেখক মাঠে, হাসপাতাল, মর্গ, জরুরি বিভাগে সব জায়গায় ঘুরে প্রতিটি বাস্তবতা তুলে ধরেছেন এই বইয়ে। নিহতদের স্বজনদের কান্না, আহতদের আক্ষেপ, এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিক্রিয়া—সবকিছুই জীবন্ত দলিল হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
যে কারণে পড়বেন
লেখক তার বইটি সম্পর্কে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় একজন সংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে। এটি শুধু গণঅভ্যুত্থান নয়, এটি একটি সাংবাদিকের জীবন যুদ্ধের গল্প।
সাংবাদিক মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘মাঠে থাকা অবস্থায় যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি, সেটি পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বইটি পড়লে সেই সময়কার বৈষম্যের বিরুদ্ধে রোমহর্ষক বাস্তবতা উপলব্দি করতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও জানান, বইটি লেখার জন্য তাকে সহায়তা করেছেন প্রিয় কিছু মানুষ এবং বইটি সম্পাদনায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান মো. মুসা মিয়া এবং আফসারুল ইসলাম।
যাদের জন্য লেখা
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন’ বইটি এক সাংবাদিকের ডায়েরির মতো—যেখানে মাঠ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। ‘এটা কোনো তত্ত্ব নয়, একেবারেই একটি জীবন্ত ঘটনা’, বলেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, ‘এই বইতে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি শুধু যেটুকু দেখেছি, সেটুকুই লিখেছি। কীভাবে কাজ করেছি, কী পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলাম—এই সবকিছুই এখানে রয়েছে। আমি চাই না, ভবিষ্যতে এমন রক্তাক্ত ইতিহাস আর তৈরি হোক।’
লেখক পরিচিতি
মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ জন্ম ১৯৯৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। পিতৃপুরুষের নিবাস বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা পিরোজপুরে। মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং উচ্চমাধ্যমিক পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে সম্পন্ন করেন।
তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে বিএসএস ও এমএসএস এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
পেশায় তিনি একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক। বর্তমানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। এর আগে ‘দৈনিক বণিক বার্তা’ এবং ‘একুশে টেলিভিশনে’ কাজ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি পাঁচ বছর ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় যুক্ত থেকে দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি নিউএজ ও এনটিভি অনলাইনে কাজ করেছেন। তার প্রথম গ্রন্থ ‘আসমত আলীর অনশন’ ছিল একটি ছোটগল্প সংকলন।
এমআই/