রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষায় অপেক্ষমাণ তালিকা চালুর দাবি
মো. মনির উদ্দিন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে চলমান রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অপেক্ষমাণ তালিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছু নবীন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, এ পদ্ধতি চালু হলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী কোর্সে যুক্ত না হলে ওই তালিকায় থাকা সর্বাধিক নম্বরপ্রাপ্তদের পড়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে উচ্চশিক্ষার এসব কোর্সে আসন শূন্য থাকার পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সর্বাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পথ সুগম হবে।
তবে এই মুহূর্তে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।
যা বললেন শিক্ষার্থীরা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তিচ্ছু এক নবীন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী কোনো কারণে কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন না। ফলে কিছু সিট খালি থেকে যায়। কিন্তু অপেক্ষমাণ তালিকা থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর মেধার ভিত্তিতে ওই তালিকা থেকে ভর্তি নেওয়া যেতো, ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো আসন শূন্য থাকতো না। এতে কাঙ্ক্ষিত হারে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি হতো এবং দেশ উপকৃত হতো। কিন্তু এ রকম তালিকার ব্যবস্থা না থাকায়, সংখ্যায় কম হলেও আসন খালি থেকে যায়। নতুন কেউ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।’
এ কারণে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তিচ্ছু আরেকজন চিকিৎসক বলেন, ‘এমনটি না থাকায় আপাতত দৃষ্টিতে হয় তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে না, কিন্তু শিক্ষার্থীরা সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও দেশের চাহিদার আলোকেই আসনগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে দেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে এ বছর বিএসএমএমইউতে এমডি-এমএস রেসিডেন্সি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় নিউরোসার্জারিতে বেসরকারি প্রার্থী হিসেবে উত্তীর্ণ ডা. মো. আকতার উজ জামান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার মতে, এটি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে। কারণ, অনেকেই হয়তো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো সমস্যার জন্য ভর্তি হবেন না। তখন সিটটি ফাঁকা থেকে যায়। যদি অপেক্ষমাণ তালিকা থাকতো তাহলে সেই সিটে নতুন একজন সুযোগ পেতেন। এর মাধ্যমে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হতো এবং এই স্বপ্ন শুধু তার নয়, পরিবার ও তাঁর কাছের মানুষদেরও। আর এই স্বপ্ন পুরণের যে খুশি সেটা অবর্ণনীয়।’
এ প্রসঙ্গে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত ফেজ-বি’র এক রেসিডেন্ট বলেন, কোনো একটি বিষয়ে সারাদেশে ধরেন, ২০টি আসন বরাদ্দ আছে। যারা চান্স পান, তাদের সবাই মোটামুটি ভর্তি হয়ে যায়। কারণ ভর্তি পরীক্ষা এতো বেশি প্রতিযোগিতামূলক যে, কেউ আর এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। তারা কেউ ভাবেন না যে, চান্স তো পেলাম, আরেকবার অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দেখি। তাই সরে যাওয়ার সংখ্যাটা খুবই কম। তবে এক হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০-১২ জন কিংবা ১৫-২০ জনও যদি কোনো কারণে কোর্স থেকে সরে পড়েন, তাহলে অপেক্ষমাণ তালিকার শিক্ষার্থীরা সুযোগ নিতে পারেন। ধরেন, একটি বিষয়ে ২০টি আসন আছে, কোনো কারণে যদি একজন ভর্তি হতে না পারেন, তাহলে ওই তালিকার একজন এ সুযোগটা পেয়ে যাবেন। এসব দিক বিবেচনায় অনায়াসেই অপেক্ষমাণ তালিকা রাখা যায়, এতে বড় ধরনের কোনো ঝামেলা হবে না। এটি করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে খুব বেশি ক্ষতি হবে, কিংবা আলাদা কোনো কষ্ট করতে হবে—তাও না। এক কথায় এর দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষার্থী কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সুযোগ রাখলে এর দ্বারা কোনো না কোনো শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন।
বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কিছু ভাবিনি। দেখি, ভবিষ্যতে করা যায় কিনা। আমি একা তো সব করতে পারি না। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেটে পেশ করতে হয়। এই মুহূর্তে আমাদের এই ধরনের কোনো চিন্তা-ভাবনা নাই।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল হান্নান একই দিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, এটি ফাঁকা থাকে। পরের পরীক্ষার সময় ওই বিষয়ে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে, তবে শূন্য আসন পূরণের জন্য নয়। যেটা ফাঁকা আছে সেটা ফাঁকাই থাকবে।’
প্রসঙ্গত, দেশে চিকিৎসকদের বিভিন্ন ধরনের পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) অধীনে এফসিপিএস, এমসিপিএস এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্স।
এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষায় যারা পাস করেন, তারা কোর্সের অধীনে ট্রেনিংয়ের সুযোগ পান। অন্য দিকে রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সিতে অনেকে উত্তীর্ণ হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর বাইরে কাউকে কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় না। ফলে কোনো কারণে কেউ কোর্সে ভর্তি হতে না পারলে ওই আসনটি ফাঁকা থেকে যায়।
-
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
-
৩০ জুলাই, ২০২২
-
২৯ এপ্রিল, ২০২২
-
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২১
প্রথম দফা মাইগ্রেশন সম্পন্ন
অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ৩৩৪ শিক্ষার্থীর এমবিবিএসে ভর্তির সুযোগ