০৮ অক্টোবর, ২০২১ ০৮:৫১ পিএম

পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের মেয়াদ বাড়ানো-কমানোর সিদ্ধান্ত বিএসএমএমইউর

পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের মেয়াদ বাড়ানো-কমানোর সিদ্ধান্ত বিএসএমএমইউর
ছবি: এইচএম সাহিদ

মো. মনির উদ্দিন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও এর অধিভুক্ত পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত বা প্রলম্বিত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কোর্সগুলোর প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নসহ নানা বিষয় বাস্তবায়ন করবে তারা। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত আরোপ করবে না। তবে চলমান কোর্সগুলোর সকল দুর্বলতা চিহ্নিত করে এর সমাধানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএসএমএমইউর অধীনে চলমান পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের কারিকুলাম ও প্রেষণ নীতিমালা যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গত ৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এমন আলোচনা হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা অনুবিভাগ) মো. শাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আল আমীন মৃধাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উচ্চশিক্ষার নানা দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ খসরু।

সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান মেডিভয়েসকে জানান, ‘সভায় জানানো হয়েছে, কোর্সের সময় সংক্ষিপ্ত বা প্রলম্বিত করাসহ সামগ্রিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এমনকি কোনো কিছু চাপিয়েও দেওয়া হবে না। এ নিয়ে কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।’

একই সঙ্গে সভায় মেডিকেল উচ্চশিক্ষায় প্রশিক্ষণের মানের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে না, লগবুক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না, প্রশিক্ষণেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। এসব সংকট উত্তরণে ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈঠক ও মতবিনিময়ের পরামর্শ আসে, যার মাধ্যমে এ সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষক দরকার। সেই সঙ্গে এমন কারিকুলাম করা যাবে না, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় প্রশিক্ষণের মানের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ স্তরে গবেষণা জোরদারে গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অন্যতম মূল সমস্যা হলো উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট। যে কারণে চিকিৎসকদের প্রেষণ নীতিমালা (ডেপুটেশন) নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তারা বলেন, প্রেষণ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কেউ কেউ কোর্সে থাকছেন। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়টি সরকার সমন্বয় করবে, যাতে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়। সভায় উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরতদের ছুটিবিধি যথাযথভাবে সমন্বয়ের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দেশের সরকারি ৩৭টিসহ শতাধিক মেডিকেল কলেজের নানা সংকট তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এতো মেডিকেল কলেজ নিষ্প্রয়োজন। ৩৭টি মেডিকেল কলেজে বেসিক সায়েন্সে অধ্যাপকের ১৩৭টি পদ শূন্য। পরীক্ষা নেওয়ার মতো জনবল নাই। সবাই প্রাইভেট প্রাকটিস করার মতো কোর্সে যাচ্ছেন। এতে মেডিকেল শিক্ষা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক সংখ্যক চিকিৎসক কোর্সআউট হয়েছেন, যারা ইতিমধ্যে মেডিসিনসহ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তাদেরকে বেসিক সাবজেক্টে পড়াশোনার সুযোগ দিয়ে কোর্সে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সোসাইটির কোনো কোনো নেতা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরি করে আনছেন, অন্য দিকে কোনো কোনো বিষয়ে পদই তৈরি হচ্ছে না।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে দেওয়া সকল অতিথির বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : রেসিডেন্সি কোর্স
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত