০৯ জুলাই, ২০২১ ০৪:০৮ পিএম

করোনা থেকে সুরক্ষার চার উপায়

করোনা থেকে সুরক্ষার চার উপায়
ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নাকাল গোটা দেশ। ভাইরাসটি প্রতিরোধে চলতি মাসের শুরু থেকে দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। তবে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সাধারণ মানুষের অনিহার কারণে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় করোনা নিয়ন্ত্রণে চার উপায় পুনরোল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ। মেডিভয়েসের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা ও টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ চারটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে পারলেই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে সফল হওয়া সম্ভব। 

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মানা। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। আর টিকা যখনই আসবে তখনই নিয়ে নিতে হবে। এ চার উপায়ে করোনার থেকে বাঁচা সম্ভব।’

কেউ কেউ কারফিউ জারির মধ্যেই সমাধান দেখছেন—এ প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, কারফিউ কোনো স্থায়ী সমাধান না। সর্বোচ্চ ২/৩ দিন দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু করোনা মোকাবিলায় এ সময় যথেষ্ট নয়। এমনকি লকডাউনও স্থায়ী কোনো সমাধান না। দশ দিন এক পক্ষ দিলেন, মাসের পর মাস তো সম্ভব না।

এ ছাড়া করোনা প্রতিরোধ-প্রচেষ্টায় জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষকে বেশি দিন আটকে রাখা ঠিক হবে না। কারফিউ দিলে যারা দিন আনে দিন খায়—এ রকম দুই-আড়াই কোটি মানুষ, যাদের ঘরে এক মুঠো খাবার নেই, তাদের কি অবস্থা হবে? বরং যে কয় দিন কারফিউ থাকবে সেই দিনগুলোতে তাদেরকে খাবার সরবরাহ করতে হবে, পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে হবে। অসুখ হলে হাসপাতালে নেওয়া ব্যবস্থা থাকতে হবে। করোনা ছাড়াও কারও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, লিভার কিংবা কিডনি ফেইলিউর হতে পারে। এখন হাসপাতালগুলোতে অনেক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি। তাদেরকে ঘরে বন্দি রেখে মেরে ফেলা যাবে না। এসব নিশ্চিত করে কেউ চাইলে কারফিউ দিতে পারেন। তা না হলে কারফিউ দিয়ে লাভ হবে না।

মানুষ বিপদে পড়েই ঘর থেকে বের হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন রিকশাওয়ালার ঘরে খাবার নাই। এ অবস্থায় কারফিউ দেওয়া ঠিক হবে না।

ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ বের হলে তাকে গুলি করে মারা যাবে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আরামে ঘরে বসে মুখে কারফিউর কথা বলা সহজ। বাস্তবতা কঠিন। এটি উপলব্ধি করতে হবে। বাস্তবের সঙ্গে মিলতে হবে। কারফিউর নিয়ম হলো, কেউ বের হলে গুলি করে মেরে ফেলতে হবে। অনেক লোক পেটের দায়ে বের হচ্ছে, তাদের বক্তব্য হলো: আমরা করোনায় মরবো না। মরলে না খেয়ে মরবো। এসব হাহাকার গণমাধ্যমেও প্রচার হচ্ছে। এ রকম একজন আমার কাছে ক্ষুদেবার্তায় বললো, আপনারা শুধু কথা বলছেন..., আমাদের একটি ট্যাবলেট দেন, খেয়ে মরে যাই। আমরা না খেয়ে মারাই যাচ্ছি।’

পৃথিবীর অনেক দেশ এ সংকট পাড়ি দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা লকডাউন-কারফিউ উঠিয়ে দিচ্ছে। ব্রিটেনের মতো দেশ উঠিয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা কোনো দিন যাবে কিনা, জানি না! আমাদের জীবন-জীবিকা সচল রেখে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত বছর ৮ মার্চ। এরপর একই বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই বছরের শেষে দিকে করোনার সংক্রমণ কমতে থাকে। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। এর ফলে গত মার্চ থেকে দেশে চলাচলে শুরু হয় বিধিনিষেধ। ঈদ-উল-ফিতরের পরপর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বাড়তে থাকে। কয়েকদিনের ব্যবধানে আশপাশের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এ সংক্রমণ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক