আসামি ছাড়াই ডা. সাবিরা হত্যায় মামলা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর কলাবাগানের গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ৩৬ ঘণ্টা পর মামলা হয়েছে। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলাটি করেছেন ওই চিকিৎসকের মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল।
আজ বুধবার (০২ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিহত চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর ১/৯৪।
উল্লেখ্য, সোমবার (৩১ মে) কলাবাগানের নিজ ঘর থেকে ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধার করেছে কলাবাগান থানা পুলিশ।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর পিঠে ও গলায় জখমের চিহ্ন আছে।
ওইদিন দুপুরে কলাবাগানের ৫০/১ ফাস্টলেনের তিন তলার নিজ ঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার এএসআই এরশাদুল।
তিনি বলেন, ‘দুপুর আড়াইটার দিকে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে ওই বাসায় গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে সুরতহাল রিপোর্টের পর পরিচয়সহ বিস্তারিত জানা যাবে।’
এরশাদুল বলেন, ওই চিকিৎসক সাবলেটে থাকতেন। তিনি গ্রিন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
এদিকে ডা. সাবিরা রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবলেটের বাসিন্দা কানিজ ফাতেমা, তার এক বন্ধু ও বাসার দারোয়ান রমজানকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দ (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিজুল হক বলেন, ওই চিকিৎসক বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং অন্য দুইটি রুম তিনি সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিয়েছিলেন।
সাবলেটের ভাড়াটিয়া কানিজ ফাতেমার জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী তিনি বলেন,গত রাত থেকে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। সকালে কানিজ ফাতেমা যখন হাটতে বের হন তখন ডা. সাবিরার দরজা বন্ধ ছিল। পরে ফিরে এসে দেখেন যে, সাবিরার রুম থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তিনি বাড়ির দারোয়ানকে ডাকে এবং রুমের তালা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে ডা. সাবিরার মৃতদেহ দেখতে পায়। তাঁরা ধারণা করেছিল যে আগুন লেগে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এইচ এম আজিজুল হক বলেন, পরে পুলিশকে খবর দিলে আমরা এসে দেখি যে তার গলায় একটি গভির জখম রয়েছে। এছাড়া তাঁর পিঠেও দুটি জখম পাওয়া গিয়েছে। ফলে আমাদের কাছে এটি অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক মনে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি এবং আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ রহস্যের জট খুলবে।
-
০৯ অগাস্ট, ২০২৬
-
০৪ মে, ২০২৬
-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
২০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬