করোনায় আক্রান্ত মেডিকেল পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
মুন্নাফ রশিদ: আগামী জানুয়ারিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়মিত-অনিয়মিত বিভিন্ন ব্যাচের প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের গাইডলাইন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই এ পরীক্ষা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে করোনাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনাবলী ব্যানার আকারে ইনিস্টিটিউটগুলোতে টানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ঝুলিয়ে দেওয়া ওই ব্যানারে ৮টি নির্দেশনা রয়েছে। অন্য সব নির্দেশনা ঠিকঠাক থাকলেও আপত্তি চতুর্থ নম্বর নির্দেশনা নিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনও পরীক্ষার্থী পরীক্ষার পূর্বে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইলে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না।’
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই পয়েন্টের ব্যাপারে বরাবরই আমাদের আপত্তি রয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের সময়ে এই বিষয়টির কোনও সুরহা হয়নি। যেহেতু করোনায় আক্রান্ত হওয়া কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভর করে না। সেহেতু কর্তৃপক্ষও বিষয়টি আমলে নিবেন বলে আশা করছেন তারা।
তবে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিয়ামুল হক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এই পয়েন্টের ব্যাপারে বরাবরই আমাদের সবার আপত্তি রয়েছে। তবে করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের জন্য আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
তিনি বলেন, ‘করোনা কারো জন্য ব্যর্থতা না এটা তো দুর্ভাগ্যের মতো। আর এটাতে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে কারো ব্যক্তিগত হাত নেই। সুতরাং এই দুর্ভাগ্যের কারণে কেউ যদি পিছিয়ে যায় সেটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। তাই আমরা চাই, করোনায় আক্রান্ত হলে যেন বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়।’
গত ফাইনাল প্রফে কিন্তু সেই বিষয়টি আমলে নিয়েই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল বলে জানান নিয়ামুল হক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশমাম সাকীব অর্ণব মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষকরা।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহাদ জয় মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটা তো নিশ্চয়ই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। আমাদের এই পরীক্ষা গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে আমরা ছয় মাস পিছিয়ে গিয়েছি। সুতরাং করোনায় আক্রান্ত হলে যদি আরও ছয় মাস পিছিয়ে যায় তাহলে তা আমাদের জন্য চরম ক্ষতি হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরীক্ষা দিতে চাই না বিষয়টি তেমন না; আমরা তো অবশ্যই পরীক্ষা দিতে চাই। আমরা স্যারদের কথা অনুযায়ী পরীক্ষা দিচ্ছি। তবে সেক্ষেত্রে আক্রান্তদের জন্য অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।’
পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, সকল পরীক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে এবং মাস্ক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হবে।
সকল পরীক্ষার্থীকে এক মাস পূর্ব হইতে অবশ্যই হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে এবং ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারান্টাইনকালীন জরুরী প্রয়োজনে ছাড়া তার আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে পারবে না।
সকল পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর ১৫ দিন পূর্বে এবং পুনরায় দুই দিন পূর্বে করোনা টেস্ট করতে হবে।
কোনও পরীক্ষার্থী পরীক্ষার পূর্বে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইলে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না।
হোস্টেলে প্রবেশের সময় এবং পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ছবিসহ পরীক্ষার্থী লেখা প্রবেশপত্র দেখাইতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা বাহিরে ঘোরাফেরা করিতে পারিবে না। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র ষ্টাফের মাধ্যমে আনতে হবে।
হোস্টেলে প্রবেশের সময় এবং পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় প্রবেশমুখে সাবান পানি দ্বারা হাত ধৌত করতে হবে।
সকল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কোন পরীক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থান করতে পারবে না।
এসব বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছেন। আশা করছি তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে যাওয়া উচিত। কারণ ইতোমধ্যে তারা অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। সুতরাং করোনা আক্রান্ত হলে আবারও পিছিয়ে যাবে। যেটা তাদের জন্য অত্যান্ত ক্ষতি।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। করোনার যে সাইন্টিফিক বিষয়গুলি রয়েছে সেগুলোকে মেনে কিভাবে পরীক্ষা বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভাগীয় প্রধানদের সাথে আলোচনা চলছে। সামনে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।’
কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেলের অধ্যক্ষ আরও বলেন, যাতে অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের পক্ষে যায় সে জন্যই কাজ করা হচ্ছে। তবে এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এছাড়া পরীক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা একটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সামনে আরও আলোচনা হবে। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে আকেটি সিদ্ধান্ত হবে।’
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন উদ্বিগ্ন না হয় সে জন্য তাদেরকে নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ অধ্যক্ষ।
প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর করোনার পরিস্থিতিতে বন্ড সই দিয়ে প্রফেশনাল পরীক্ষা না নেওয়া, বিকল্প উপায়ে পরীক্ষার আয়োজনসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
-
২১ ঘন্টা আগে
-
০৬ জুন, ২০২৬
-
০৮ মার্চ, ২০২৬
-
০৫ মার্চ, ২০২৬
-
০৫ মার্চ, ২০২৬
-
১৫ জুন, ২০২৫
বেসরকারি মেডিকেলে ৬০০ আসন ফাঁকা
দ্বিতীয় দফা ভর্তি বিজ্ঞপ্তির দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন