২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:০৭ পিএম
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

শাহ মখদুমের এমডিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

শাহ মখদুমের এমডিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজশাহীর শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ও আগের রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হামলায় আহত মেডিকেল শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান শুক্রবার রাতে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীনকে প্রধান আসামি করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নয় জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ১৩ জনকে আসামি করে এ মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই দুইজনকে এবং আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনের ছোট ভাই মিঠু এবং তার স্ত্রী বিউটি। হামলার ভিডিও দেখে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুইজনের নাম পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসেন। তারা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্য হলেন, অধ্যাপক ডা. সরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর একেএম আমিরুল ইসলাম মোরশেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব আবদুল কবীর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. উৎপল কিশোর। 

প্রতিনিধি দলের সদস্য অধ্যাপক ডা. সরফুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল কলেজের যে পরিবেশ থাকা প্রয়োজন তা না থাকলে সেটি চলবে না। তবে যদি পরিবেশ তৈরি করতে পারে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারে, তবে ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবো।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় কলেজের হোস্টেল থেকে শীতের কাপড় আনতে যান তারা। প্রথমে ক্যাম্পাসে যেতে বাধা দেওয়া হলেও পরে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীরুজ্জামান স্বাধীনের ভাই মিঠু ও টিটুসহ মালিকপক্ষের লোকজন। পরে হামলায় যোগ দেয় বহিরাগত একাধিক ক্যাডার। 

হামলায় কমপক্ষ ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের কয়েকজনের হাত ভেঙে গেছে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে। কোনো দিন যদি এ মেডিকেল কলেজ চালু হয়, তবে শিক্ষক নিয়ে আসতে হবে। যতদিন শিক্ষক নাই ততদিন শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি পারি তাদের অন্য কলেজে পাঠানো হবে।’

অন্যদিকে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, শুরু থেকেই ভাড়া করা শিক্ষক ও সরঞ্জাম দিয়ে চলছিল রাজশাহীর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ। ২০১৩ সালে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর থেকে নানা অনিয়মের মাধ্যমে বছর বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছিল কলেজটি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক দফায় ২২৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। পরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালার শর্ত অমান্য করায় কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই মেডিকেলের সকল শিক্ষার্থীকে অন্য বেসরকারি মেডিকেলে মাইগ্রেশনের অনুমতি দেওয়া হয়।

গত ২ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখার উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব কথা বলা হয়।

এমতাবস্থায়, বেসরকারি শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ হতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নির্দেশক্রমে বন্ধ করা হলো।

শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য যে কোনো মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : শাহ মখদুম মেডিকেল
মেডিকেল শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের পরীক্ষা

সংক্রমিতদের মৌখিক পরীক্ষায় নমনীয় মেডিকেলগুলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত