২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:২৭ পিএম

শাহ মাখদুম মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ১০

শাহ মাখদুম মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ১০
হামলায় আহত শিক্ষার্থী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজশাহীর শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় কলেজটির ক্যাম্পাসে তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আজ বিকেলে কলেজের হোস্টেল থেকে শীতের কাপড় আনতে যান তারা। প্রথমে ক্যাম্পাসে যেতে বাধা দেওয়া হলেও পরে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় মালিকপক্ষের লোকজন। পরে হামলায় যোগ দেয় বহিরাগত একাধিক ক্যাডার। 

হামলায় কমপক্ষ ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের কয়েকজনের হাত ভেঙে গেছে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার বর্ণনা দিয়ে আহত একজন ছাত্রী বলেন, ‘উনারা প্রথমে আমাদের ঢুকতে দিতে চাইলেন না। হঠাৎ কী মনে করে যেন বললো, ঠিক আছে তোমরা ভেতরে চলো। ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে বয়েজ হোস্টেল পার করার পর আমাদের সামনে ও পেছন থেকে একযোগে বাঁশ দিয়ে আঘাত করা শুরু করে। এমডি, তার ভাই এবং কলেজের খালারা সবাই শিক্ষার্থীদের মারতে থাকে। আমরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালানোর সময়ও রাস্তায় ফেলে আমাদেরকে নির্মমভাবে মেরেছে, লাথি দিয়েছে। মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছে, জামা-কাপ ছিড়ে ফেলেছে। আমরা ১০/১৫ ছিলাম, চারজন ছেলে ছিল, ওদের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। প্রায় সবার একই অবস্থা। আমাদের মুঠোফোনগুলো কেড়ে নিয়ে ভেঙে দিয়েছে। হামলার জন্য গুন্ডা ভাড়া করেছে। যাদের আমরা কোনো দিন দেখিনি এ রকম ছেলেরাও হামলায় ছিল।’

আহত আরেক ছাত্রী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বাঁশ ছিল, রড ছিল। এসব দিয়ে আমাদেরকে মারতে শুরু করে। একজন আরেকজনকে আটকাতে গেলে আমাদের ফোন কেড়ে নেয়। কারও ফোন ভেঙে দিয়েছে। বাঁশ দিয়ে মেয়েদের আঘাত করা হয়েছে। তাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। হামলায় আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তারা ভর্তি আছে।’

হামলায় জড়িতদের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদেরকে কেন মারা হলো, আমরা কী অপরাধ করেছিলাম।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক দফায় ২২৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। পরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালার শর্ত অমান্য করায় কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই মেডিকেলের সকল শিক্ষার্থীকে অন্য বেসরকারি মেডিকেলে মাইগ্রেশনের অনুমতি দেওয়া হয়।

গত ২ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখার উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব কথা বলা হয়।

শাহ মাখদুম মেডিকেলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধকরণ সংক্রান্ত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/আইএইচটি/ম্যাটস প্রতিষ্ঠা, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন কোর্স অনুমোদন ইত্যাদি সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, মেডিকেল কলেজটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১-এর (সংশোধিত) শর্তসমূহ প্রতিপালন না করায় গত গত বছরের ১০ মার্চ পরিদর্শন করা হয়। এর পর যে সকল বিষয়ে ঘাটতিপূরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল, পরবর্তীতে এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি পরিদর্শনে পূর্বেকার পরিদর্শনের সময় প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় এবং কর্তৃপক্ষের কলেজ মানসম্মত করার কোনোরকম সদিচ্ছা না থাকায় মেডিকেল কলেজটিতে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ হতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। মেডিকেল কলেজে বিদ্যমান ছাত্র-ছাত্রীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্যান্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। এ বিষয়ে মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এমতাবস্থায়, বেসরকারি শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ হতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নির্দেশক্রমে বন্ধ করা হলো।

শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য যে কোনো মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল শনিবার কলেজটি পরিদর্শনে আসার কর্মসূচি রয়েছে। এর আগের দিনই কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটলো। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত