০২ নভেম্বর, ২০২০ ১২:১২ পিএম
স্মরণসভায় অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

‘ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে অধ্যাপক ডা. তাহিরকে পৌঁছে দিতে হবে’

‘ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে অধ্যাপক ডা. তাহিরকে পৌঁছে দিতে হবে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিংবদন্তি চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. তাহিরের স্মৃতিরক্ষায় স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

তিনি বলেন, ‘এদেশের মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে অধ্যাপক তাহিরের ভূমিকা চিরকাল স্মরণ করতে হবে। আমাদের কর্তব্য হলো- স্যারের স্মৃতিগুলোকে রক্ষা করা এবং তাঁর শিক্ষা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। যেন আগামী প্রজন্ম যেন তাহের স্যারকে জানতে পারে, শিখতে পারে।’

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে মেডিভয়েসের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. তাহির একজন আদর্শ শিক্ষক, একজন আদর্শ মানুষ। যেকারণে দেশের সকল মহলে তাঁর একটা বিশাল সম্মান রয়েছে। আমরা যতটুকু দেখেছি, প্রফেসর তাহির কোথাও গেলে তিনি খালি হাতে ফিরেছেন, এমন আমার মনে পড়ে না। যেখানেই কোন সমস্যা, সেখানেই অধ্যাপক তাহির, আর সেখানেই সমাধান।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংস্থা সংগঠন রয়েছে। তারা চাইলে অধ্যাপক ডা. তাহিরকে নিয়ে একটি স্মৃতিগ্রন্থ বা স্মারকগ্রন্থের উদ্যোগ নিতে পারে।’

‘স্মরণে তাহির স্যার’ লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ আয়োজনের জন্য মেডিভয়েসকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘এ রকম গুণী মানুষকে যদি আমরা স্মরণ না করি, অনুজদের সামনে তুলে না ধরি, তাহলে আমাদের পুরো জ্ঞানার্জনটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে স্যারের প্রিয় ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমার মতো আরও অনেকেই স্যারের প্রিয় ছিলেন। স্যারকে কেমন দেখেছি, তা বলার চেয়ে তাঁর কাছ থেকে কি শিখেছি তা বললে চিকিৎসক ও অনুজরা বেশি উপকৃত হবেন। কারণ দীর্ঘ চলার পথে আমরা সবাই শিক্ষার্থী। অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং এ পথ ধরে একটি জায়গায় এসেছি। শেখার এ ধারা এখনও অব্যাহত আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাহির স্যারের প্রবল একটি বাসনা ছিল, তাঁর সাবজেক্টটির বিস্তৃতি ঘটুক। তাঁর পেশাটা আরও গ্রহণযোগ্যতা পাক। স্যারের প্রত্যাশার প্রত্যক্ষ ফসল আমি। আমি আটবার পিএসসি পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু কোনোবারই উত্তীর্ণ হইনি। সর্বশেষ নিউরো মেডিসিনে তিন বছর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থাকা অবস্থায় সিলেক্ট হলাম। তারপর তাহির স্যারকে গিয়ে বলার পর স্যারের পরামর্শে মেডিসিনের চলে আসি। অন্যথায় আমার মেডিসিনে আসা হতো না।’

‘তাহির স্যার অসংখ্য মানুষের উপকার করেছেন কিন্তু এর জন্য কোনো বিনিময় চাননি। কোনো রকমের প্রতিদান ছাড়াই তিনি সবার জন্য কাজ করেছেন’, যোগ করেন অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

অধ্যাপক ডা. এম এ তাহির পেশাগত জীবনে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। অলঙ্কৃত করেছেন ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এর কান্ট্রি এডভাইজারের পদ। এছাড়াও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স অ্যন্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের কিংবদন্তি এ চিকিৎসক। 

  ঘটনা প্রবাহ : অধ্যাপক ডা. মো. তাহির
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক