১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:০০ পিএম

করোনা মোকাবেলার কৃতিত্ব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনা মোকাবেলার কৃতিত্ব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সাহিদ

মেডিভেয়েস রিপোর্ট: দেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এর কৃতিত্ব দেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোসাইটি অব সার্জন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ দুর্যোগে সার্জনদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এই কৃতিত্ব দেশের চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। তাদের কাজের কারণেই এই সফলতা এসেছে। করোনায় বিশ্বর বহু উন্নত দেশ কাবু হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সীমিত তার জনবল ও প্রযুক্তি নিয়েও সকলের পরিশ্রমে অন্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো আছে।

প্রধানমন্ত্রী এখন প্রতিটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের সফলতার প্রশংসা করেন উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেখতে হবে মৃত্যুর হার কেমন। আমাদের ১৮ কোটির মধ্যে ৫ হাজার মারা গেছে। আমেরিকার জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ মারা গেছে। ইউরোপের চার-পাঁচ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে অনেক মানুষ মারা গেছে। এসব তুলনা করলে বুঝতে পারি আমরা কোন অবস্থানে আছি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন। অনেকে নেতিবাচক কথা বলে, কিন্তু আমরা পিছপা হইনি। দেশের জন্য কাজ করে গেছি।’ এসময় ১৫ দিনে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়াকে মাইলফলক ও প্রধানমন্ত্রীর সময়পযোগী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য দিক নির্দেশনায় আমার করোনার ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের চিকিৎসা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কার্যকরী প্রমানিত হয়েছে। এ রকম একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশেও আমার এ রোগের বিস্তার এবং ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছি এবং মৃত্যুহার আমাদের দেশে অতি নগন্য। যদিও একটি অনাকথিত মৃত্যু বেদনাদায়ক। তবুও আমাদের সফলতা কম নয়।’

জনগন টেস্ট করাতে না আসায় করোনা টেস্টের সংখ্যা কম জানিয়েছে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের করোনা টেস্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। কিন্তু মানুষ টেস্ট করতে আসে না। আমি বলব আপনারা আসুন টেস্ট করুন। নিজে ও পরিবার নিয়ে সাবধানে থাকুন।’

এসময় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সামনে শীতকাল আসছে। এসময় করোনা দ্বিতীয় ঢেউ বা সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপ আমেরিকায় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে যেনো সংক্রমণ না বাড়ে প্রধানমন্ত্রী সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন। এ সময় বিয়ে সাদি বেশি হয়, পিকনিক বেশি হয়। সাধারষ মানুষ কক্সবাজারে বেশি যায়। এছাড়া সামনে পূজা আছে, শীতে ওয়াজ মাহফিল হয়, যার কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে। এসকল অনুষ্ঠান সীমিত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এছাড়াও অতি শিগগিরই স্বল্পমূল্যে, আবহাওয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভ্যাকসিন সরকার আমদানী করবে এবং বাংলাদেশের মানুষ সময় মতো ভ্যাকসিন পাবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. এহতেশামুল হক চৌধুরী এবং স্বাচিপ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এম.এ আজিজ প্রমুখ।

মেডিভয়েস এর জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্ট গুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
স্বাস্থ্য প্রশাসনে অন্য ক্যাডার

কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি পেশাজীবী চিকিৎসক নেতাদের