০৪ জুন, ২০২৬ ০৪:৫৬ পিএম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা প্রমাণিত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা প্রমাণিত
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। 

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি মন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বহীন অবহেলা এবং হাসপাতালে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ না থাকার কারণেই এই মর্মান্তিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের বদ্ধ কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকার কারণে নবজাতকদের প্রাণহানি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, এই তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা পুরোপুরি প্রমাণিত হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন অবহেলার সাথে জড়িত হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। একই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রায় ৯০০ বর্গফুটের কক্ষে রোগী, নবজাতক ও স্বজন মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা কক্ষটির ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও কোনো জরুরি চিকিৎসা প্রতিক্রিয়া কার্যকর করা হয়নি। অভিভাবকদের অভিযোগের পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকারা যথাসময়ে সাড়া দেননি এবং কোনো চিকিৎসককে অবহিত করার উদ্যোগও নেননি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্তে হাসপাতাল প্রশাসনের একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে রোগীদের তত্ত্বাবধানে কোনো চিকিৎসক নিয়োজিত ছিলেন না, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও ছিল না। পাশাপাশি আলো-বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত লোকজন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী রোববারের মধ্যে জানানো হতে পারে। ঘটনার পর দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন হাসপাতালের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ভবনের উপযুক্ততা যাচাই এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। হাসপাতালের মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে আগামী ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, হাসপাতালটির প্রাথমিক অনুমোদন থাকলেও ভবনের কাঠামোগত বিভিন্ন পরিবর্তন আইনসম্মত ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জেএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত