০৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ এখন করোনা থেকে নিরাপদ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন করোনা থেকে নিরাপদ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সকল জল্পনা-কল্পনাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মহামরী করোনাভাইরাস মোকাবেলা করে এখন ভাইরাসটি থেকে নিরাপদ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২০’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ মাসে যখন দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ দেখা দেয় তখন নানা মানুষ নানারকম জল্পনা কল্পনা শুরু করতে থাকে। তখন বলা হতো বাংলাদেশে মানুষের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। করোনায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে। অথচ বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার বিশ্বের সবচেয়ে কম হারের দেশের কাতারেই রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা ইউরোপ, আমেরিকার থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছে। করোনা থেকে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই নিরাপদ। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিক নির্দেশনা ও দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে।’

ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের প্রতিটি সুস্থ শিশুই আগামী দিনের উজ্জ্বল বাংলাদেশের কান্ডারি হবে। আজকের শিশুকে টীকা দিলে সেই সন্তান ভবিষ্যতের সুস্থ ও মেধাবী সন্তান হবে। এই সন্তান ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। একইভাবে এই টীকা না দেয়া হলে সন্তান নানা রোগে রোগাক্রান্ত হতে পারে। সন্তান হাবা-গোবা, বেটে হতে পারে। একটি রোগাক্রান্ত সন্তান একটি পরিবারের জন্য অনেক কষ্টের কারন। তাই দেশে একটি শিশুও যেন রোগাক্রান্ত হয়ে না জন্মায় সেদিকে সরকার যে সকল উদ্যোগ গ্রহন করছে তা আমাদের সকলকে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি এলাকার মায়েদের টীকাদান কেন্দ্রে পাঠাতে উদ্ভূদ্ধ করতে হবে।’

এসময় টিকা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে জাহিদ মালেক বলেন, আজ থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর সারাদেশর সকল ইপিআই টীকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সমূহে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া মন্ত্রী মায়েদের উদ্দেশ্য বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রতিটি মাকে এক ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধসহ মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের বুকের দুধই খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ৬ মাস পার হলে তখন মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে অন্যান্য খাবার দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের ৬ মাস থেকে ১ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৭ লক্ষ শিশুকে নীল রঙের ১ টি করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লক্ষ শিশুকে লাল রঙের ১ টি করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ইপি আই টীকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহ, লাইন ডিরেক্টর মুস্তাফিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক