‘ল্যাব বন্ধ করছি না, কেউ আসলে সেবা দেবো’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘প্লাজমা সেন্টার ও আরটি-পিসিআর পদ্ধিতিতে পরীক্ষার বিষয়ে আমরা গত ১২ আগস্ট প্রথম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক বরাবর ইমেইলে চিঠি দিয়েছি। কোনো উত্তর পাইনি। পরে গতকাল আবারও চিঠি দিয়েছি। তারও কোনো উত্তর পাইনি। আমরা ল্যাব বন্ধ করছি না, কেউ আসলে সেবা দেবো।’
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ল্যাব বন্ধ করছি না। আমাদের এখানে যারা আসবেন, আমরা তাদেরকে সেবা দেবো। যারা প্লাজমা দিতে আসবেন, তাদেরটা নেবো, যারা নিতে আসবেন, তাদেরকে দেবো। তবে, আমরা সর্বশেষ আবারও গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছি। আমরা আশা করব, দ্রুতই তারা আমাদেরকে অনুমোদন দেবে।’
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্লাজমা সেন্টার ও আরটি-পিসিআর পদ্ধিতিতে পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি। উত্তর না দিয়ে তারা আরটি-পিসিআর ল্যাব ও প্লাজমা সেন্টার বন্ধ করতে বলে, অন্যথায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটা স্বাধীন দেশে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাবে না কেন? আমরা লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে অনুমোদন চাইছি, আর সরকারি কর্মকর্তা সেই লিখিত চিঠির উত্তর না দিয়ে আমাদেরকে মোবাইল কোর্টের হুমকি দিচ্ছেন। এটা কেমন কথা?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে আধুনিক ভবন, অত্যাধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম, দক্ষ-অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান আছেন। আমরা এই সামর্থ্য দিয়ে মহামারিকালে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে চাচ্ছি। আমরা যাতে ঠিকমতো সেবাটা দিতে পারি, সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এগিয়ে এসে সহায়তা দেওয়ার কথা। তারা সেটা না করে আমাদের ল্যাব বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ হতে পারে না।’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কাজ করছি। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর নিয়ম-কানুন মেনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কোনো চুরি-বাটপারির জায়গা নয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কোনো ধরনের খারাপ কিছু করছে না কিংবা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে না। আমরা প্রায় বিনা মূল্যে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। সেই প্রতিষ্ঠান কেন মহামারিকালে কাজ করতে পারবে না? এমন সময়ে কি আমরা হাতগুটিয়ে বসে থাকব? এখন কি মোবাইল কোর্ট এসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ করে দেবে? দিলে কী হবে? লাখ লাখ সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। সরকার যদি সেটাকেই ভালো মনে করে, করবে। সেখানে আমাদের তো কিছু করার নেই।’
প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট (সোমবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্লিনিক ও হাসপাতালসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা ফোন দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আরটি-পিসিআর ল্যাব ব্লাড ট্রান্সফিউশন ও প্লাজমা সেন্টারের অনুমোদন নেই জানিয়ে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও কার্যক্রম চালু রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া আরপিটিসিআর ফর কোভিড ১৯ এবং ব্লাড ট্রান্সফিউশন ও প্লাজমা সেন্টারের জন্য আলাদা অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তাদের লাইসেন্স নেই। তাদের আরটি-পিসিআর ল্যাবে টেস্ট ও প্লাজমা সেন্টারে থেরাপি দিচ্ছে। এর কোনো অনুমোদন নেই। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের ফোন করলাম। তারা প্রথমে অস্বীকার করলো। লাইসেন্স না থাকায় আমরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছি। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।’
-
০৫ মার্চ, ২০২৬
-
১৫ অক্টোবর, ২০২৪
-
১২ অক্টোবর, ২০২৪
-
৩০ অগাস্ট, ২০২৩
-
২৭ এপ্রিল, ২০২৩
-
২০ এপ্রিল, ২০২৩
-
১৪ এপ্রিল, ২০২৩
-
১২ এপ্রিল, ২০২৩
-
১২ এপ্রিল, ২০২৩