২৬ জুলাই, ২০২০ ১০:৪৬ এএম

মেডিকেলে ভর্তি জালিয়াতি: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেডিকেলে ভর্তি জালিয়াতি: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ভর্তি জালিয়াতিরি ঘটনায় একেরপর এক বেড়িয়ে আসতে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় আটক জালিয়াত চক্রের হোতা জসিমউদ্দিন, চক্রের সদস্য পারভেজ খান ও জাকির হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদে মুখ খুলতে শুরু করে তারা।

গতকাল (২৫ জুলাই) আটক ওই তিনজনের সাত দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন ছিল।

সিআইডি জানিয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে প্রায় ২০০ জনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জালিয়াতি করে বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর নামও জানা গেছে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ সুপার এস এম আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, তিন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের আশ্রয়–প্রশ্রয়দাতা, সহযোগিতাকারী এবং জালিয়াতি করে যাঁরা মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন তাঁদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীর নামও বলেছেন তাঁরা। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা চক্রের সদস্যদের অবৈধ সম্পদেরও খোঁজ পেয়েছে সিআইডি। চক্রের হোতা জসিমের ঢাকায় দুটি বাড়ি ও একটি গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ২০ জুলাই গ্রেপ্তারের পর সিআইডি জানিয়েছিল, জসিমের কাছে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক পেয়েছিল সিআইডি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস:

মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই বারবার ফাঁস হয়েছে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন। প্রেসের মেশিনম্যান সালাম এবং তার খালাতো ভাই জসীম- এ দুজন মিলে দেশব্যাপী গড়ে তুলেছিলেন একটি চক্র। চক্রটির মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী টাকার জোরে ভর্তি হয়েছে মেডিকেল কলেজগুলোয়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করেছে সিআইডি’র তদন্তকারী দল।

সিআইডি আরো জানায়, সিআইডির সাইবার পুলিশের হাতে ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন ভূঁইয়াসহ চক্রের ১১ সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।

এছাড়া অধিদপ্তরের ক্ষমতাবান কর্তাদের মদদে প্রেস থেকে বহু বছর ধরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতেন মেশিনম্যান আবদুস সালাম। তার খালাতো ভাই জসিমের কাজ ছিল সারা দেশে ফাঁসকৃত প্রশ্ন ছড়িয়ে দেয়া। এ জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল তার। দেশব্যাপী চক্রটির প্রায় অর্ধশত সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে সিআইডি।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে মেডিকেল খাতের অন্যতম বৃহৎ এই কেলেঙ্কারির তথ্য উঠে এলে গত ১৯শে জুলাই মিরপুরের বাসা থেকে জসিমকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ। গ্রেফতারের পর অকপটে নিজের অপকর্মের কথা স্বীকারও করেন তিনি। দেশজুড়ে চক্রটির প্রায় অর্ধশত সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনতে প্রশ্নফাঁস মামলার পাশাপাশি মানিলন্ডারিং মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআইডি।

চক্রের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে মামলা:

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ২০১৫ সালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ওই ঘটনার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তিন বছরের অনুসন্ধানের পর পুরো চক্র চিহ্নিত হওয়ায় গত সোমবার (২০ জুলাই) এ মামলা দায়ের করেছে তারা। 

২০১৫ সালের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠে। তবে তখন এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ না থাকায় তা বাতিল ও কোনো মামলা করা হয়নি।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও সিআইডির যৌথ অনুসন্ধানে এর মূলহোতাদের সন্ধানসহ ওই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এর জেরেই মামলাটি দায়ের করা হয়। 

অনুসন্ধানে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মিরপুরের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর নাম উঠে আসে। তাকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনার মূলহোতাসহ আরও ৩ জনকে আটক করে সিআইডি। আটককৃতরা জানিয়েছেন কিভাবে, কখন এবং কত টাকার বিনিময়ে সেই ঘটনা ঘটেছিল। আর কে ছিল এসব ঘটনার মূলহোতা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে আসে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ব্যাপকতা রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ওই সময় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক