মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁস: অন্যতম হোতা মেশিনম্যান সালাম আটক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিআইডি কার্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম হোতা আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে গতকাল রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসের মেশিনম্যান সালাম ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত ছিলো। সালাম এ ঘটনায় ইতিমোধ্যে আটক মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন মুন্নু খালাতো ভাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের এই কর্মচারী প্রেস থেকে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করতেন। এরপর তারই খালাতো ভাই জসিম উদ্দিন মুন্নুকে তা সরবরাহ করাতেন। জসিম তার বিভিন্ন সহযোগীর কাছে ফাঁস করা প্রশ্ন সরবরাহ করতেন। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন অসাধু চিকিৎসক এবং তিন-চারটি কোচিং সেন্টারও জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ বিষয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম বলেন, ‘তাকে ধরতে সর্বশেষ গত চার-পাঁচদিন নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও অভিযানের পর গতরাতে সফল হয় সাইবার পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে ছদ্মবেশ ধরে রাজধানীর বনশ্রীর জি-ব্লকের একটি বাসা থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে কী পরিমাণ সম্পদ তাঁরা গড়েছেন সেগুলো আমরা তদন্ত করছি। মানি লন্ডারিং মামলার প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে তদন্ত করছি। আসামিদের নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য পেয়েছি। শুধু একজনের কথা যদি বলি, জসিমের মোট ৩৮টিপ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পেয়েছি। এসব অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণ ২১ কোটি ২৭ লাখ। তার স্ত্রী শারমিন আরা জেসমিন ওরফে শিল্পীর ১৪টি অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণ তিন কোটি ৭৮ লাখ। আমার লক্ষ করেছি, যখন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হয়, সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বরে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে ক্রেডিট বেশি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে আসে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ব্যাপকতা রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ওই সময় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের সন্ধান পায় সাইবার পুলিশ।
-
২১ অগাস্ট, ২০২৩
-
১৪ অগাস্ট, ২০২৩
-
০৮ অগাস্ট, ২০২৩
-
০২ অক্টোবর, ২০২২
-
০৬ অক্টোবর, ২০২০
-
২৬ জুলাই, ২০২০
-
২০ জুলাই, ২০২০