২১ জুন, ২০২০ ১২:৫০ পিএম

করোনা নির্মূলে এফডিএসআরের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

করোনা নির্মূলে এফডিএসআরের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

তানভীর সিদ্দিকী: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে শতভাগ নির্মূল করার লক্ষ্যে ১০০ দিনের রোডম্যাপ ও কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর সেফটি রাইট অ্যান্ড রেস্পন্সিবিলিটি (এফডিএসআর)। এতে দেশব্যাপী লকডাউন কার্যক্রম, অর্থনীতি কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখা, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পূর্ণাঙ্গ খরচের বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ‘করোনা মোকাবেলায় পরামর্শ ও কর্মক্ষেত্রের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ডা. আব্দুর নূর তুষার।

কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, সংক্রমণ ০, মৃত্যু ০, ১০০ ভাগ চিকিৎসা এবং ১০০ দিনে দেশ থেকে করোনা ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সারা দেশকে তিন ভাগে ভাগ করে লকডাউন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ২৮ দিন এবং পরবর্তী ১৪ করে এ লকডাউন করতে হবে। টানা এই লকডাউনের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত, তাদেরকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে। কারো মধ্যে উপসর্গ দেখা গেলে তারা সহজে শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি নতুন করে কেউ সংক্রমণের সুযোগ থাকবে না। ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিটি এলাকার রোগমুক্ত হবে। এসময় এলাকার বাইরে থেকে মানুষ আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

করোনাভাইরাস মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে সংগঠনটি রোগী শনাক্ত করতে কোভিড-১৯ পরিক্ষা নিশ্চিত করা, বাসায় পর্যাপ্ত ওষুধ সামগ্রী, অক্সিজেন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, ওষুধ ও অক্সিজেনসহ সকল সেবার মূল্য নির্ধারণ করা, মানসম্মত পিপিই পাওয়ার ব্যবস্থা করা, সকল হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র সেবা দেয়ার উপযুক্ত করে তুলার দাবি জানানো হয়েছে।

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়, হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল ছাত্রলীগের পঞ্চম বর্ষ এবং ইন্টার্নদের দিয়ে চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত করা, বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে সারাদেশে অন্তত ২০০ হাসপাতাল নির্বাচন করে সেখানে করোনা ইউনিট স্থাপন করা, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কিনে দিতে বলা। যেটা তারা আগামী তিন বছর ট্যাক্সের সঙ্গে অর্ধেক অর্থ কিস্তিতে সমন্বয় করতে পারবে সে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে জানাতে সংগঠনটি জানায়, দেশের ৫০০ উপজেলায় ভলেন্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা হবে ৫০ হাজার। তাদের জন্য প্রতিদিন ২০০ টাকা হিসেবে ১০ কোটি টাকা, মাসে ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। যা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং নেতারা বহন করবেন। পাঁচশ উপজেলায় ২ কোটি ৪১ লাখ দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

লকডাউন নিশ্চিত করতে পারলে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হতে পারে ২ কোটির বেশি মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে যাবে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে একদমই দরিদ্র থাকতে পারে ৬০ লাখ রোগী। তাদের জন্য চিকিৎসা বাবদ খরচ হবে ৩০০ কোটি টাকা। ভ্যান্টিলেটর ও আইসিইউ খরচ হবে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। ওষুধ বাবদ খরচ হবে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অন্যান্য সকল খরচ বাদে শুধু দরিদ্রদের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সম্ভাব্য খরচ জানাতে গিয়ে সংগঠনটি জানান, চিকিৎসায় খরচ হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। অতিরিক্ত জনবল বাবদ খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ ৫০০ কোটি টাকা। গরিব মানুষের জন্য খাবার ব্যয় ৪৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। ভলেন্টিয়ার বাবদ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যয় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। আর মোট ব্যয় ৫৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।

করোনা নির্মূূলে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা:

০ সংক্রমণ:

* টানা ২৮ দিন + ১৪ দিন = ৪২ দিন লকডাউন।

* সারা দেশকে তিনভাগে ভাগ করে লকডাউন করতে হবে।

* লকডাউন চলাকালীন সকল সম্ভাব্য রোগীকে টেস্ট করার চেষ্টা করতে হবে। টেস্ট করা না গেলে লক্ষণের ভিত্তিতে শনাক্ত করতে হবে।

* প্রথম ২৮ দিনে সবল রোগী শনাক্ত হয়ে গেলে পরবর্তী ১৪ দিনে তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

* পরবর্তী ১৪ দিনে এলাকায় ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কাজ শুরু হবে।

* অর্থাৎ ষাট দিনের মধ্যে প্রতিটি লকডাউন এলাকা রোগমুক্ত হবে।

* এই সময় লকডাউন করা এলাকায় বাইরে থেকে মানুষ আসা যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

* লকডাউন এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার, স্কুল ও স্টেডিয়াম, খোলা জায়গায় আইসোলেশন সেন্টার করতে হবে। সকল জ্বর আক্রান্ত ও লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তি, যাদের পরিবার বা বাসা নেই, তারা সেখানে আইসোলেটেড হবেন।

* সেখান থেকে যাদের হাসপাতালে নেয়া দরকার তারা হাসপাতালে যাবেন।

*যাদের পরিবার বা বাসা আছে তারা সেখানেই থাকবেন।

০ নতুন রোগ ও ০ মৃত্যু:

* লকডাউনের মধ্যে সকল রোগী শনাক্ত হয়ে যাবেন। টেস্ট না হলেও তারা হয় জ্বর কাশিতে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন অথবা হাসপাতালে যাবেন।

* ৬০ দিনের মধ্যে কমিউনিটিতে নতুন রোগ থাকবে না।

* হাসপাতালে ও বাসায় পর্যাপ্ত ওষুধ চিকিৎসা সামগ্রী ও অক্সিজেন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

* ‍ওষুধ ও অক্সিজেনসহ সকল সেবার মূল্য নির্ধারন করে দিতে হবে।

* সুলভে, মানসম্মত মাস্ক ও পিপিই পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

* সকল হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রকে কোভিড সেবা দেয়ার উপযুক্ত করে তুলতে হবে। যারা একদমই পারবেন না, তারা রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষা করার জন্য কাজ করবেন।

* যারা সুস্থ হবেন তাদের মধ্য থেকে তরুণদের বাড়ী বাড়ী সেবা দেবার কাজে নিয়োজিত করতে হবে।

* সকল আক্রান্ত রোগীর ডাটাবেস থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করার পদ্ধতি প্রস্তুত করা থাকবে।

* একক নম্বরে স্বাস্থ্য সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স হটলাইন চালু করতে হবে।

* সকল স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

* বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অধীনে এনে বেড় ও সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

* প্রতিদিন পরীক্ষার পরিমাণ একলক্ষে নিয়ে যেতে হবে। কোরিয়ান কিট ব্যবহার করে এখনকার চেয়ে কম খরচে এটা করা সম্ভব।

* এর ফলে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কেস শুন্য বা অনেক কমে নিয়ে আসা সম্ভব। ৯০ দিনের মাথায় ০ কেস ও শুণ্য মৃত্যুদিন অর্জন করা সম্ভব।

* এরপর কেবল ছোট ছোট এলাকায় জ্বর হলেই রোগী হাসপাতালে আসবে এবং তখন কোভিড রোগীকে নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া যাবে।

* প্রতিটি এলাকায় অ্যাপভিত্তিক ও মোবাইল/টেলিফোনভিত্তিক সারভেলেন্স থাকবে।

* প্রতিটি জ্বর ও লক্ষণযুক্ত কেস রিপোর্ট হবে।

* অ্যাক্টিভ সার্ভেলেন্স বা রোগ পাহারাদারি ব্যবস্থা চলতে থাকবে।

* প্রতি সপ্তাহে কোন লক্ষ্যে কতদূর পৌঁছানো গেলো সেটা গণমাধ্যমকে বলতে হবে।

* তাতে মানুষ রোডম্যাপ জানতে ও আশ্বস্ত হবে।

১০০% - ১০০ দিনের রোডম্যাপ:

* রোড ম্যাপ জানলে মানুষ স্বেচ্ছায় অংশ নেবে ও কষ্ট করবে।

* ১০০% অর্থনীতি চালু করার জন্য লকডাউন এলাকায় ধাপে ধাপে ৫০তম দিন থেকে পরবর্তি ৫০ দিনের মধ্যে সকল অফিস, ব্যাংক, দোকান, সিনেমা হল সব খুলে দেয়া হবে।

* ৬০তম দিন থেকে বিমানবন্দর ও অন্যান্য বন্দর জনপরিবহনের জন্য খুলে দেয়া হবে।

* যদি ভাগে ভাগে লকডাউন হয় তবে এলাকা থেকে এলাকায় যাতায়াত ১০০ দিন বন্ধ থাকবে।

* স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল অফিস, পাবলিক প্লেস ডিসইনফেক্ট করা হবে।

* VACCINE DIPLOMACY

* স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকল অফিস তার পরবর্তী কাজ শুরু করবে।

* সর্বত্র স্যানিটাইজার, সাবান ও হাত ধোয়ার সরঞ্জাম ও আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা করা হবে।

* মার্কেট ও বাজারে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।

* প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কাজের মধ্যে ১০০ দিনই নানাভাবে রাখা সম্ভব। তাদের জন্য নতুন কর্মসৃজন।

প্রাথমিক দরকার সমন্বয় ও নেতৃত্ব:

* একটি এক্সপার্ট প্যানেল গঠন যেখানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, জনসংযোগ এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ থাকতে পারেন। তবে কমিটিটি অনেক বড় না হওয়া বাঞ্ছনীয়। তারা পরামর্শ দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই এক্সপার্ট কমিটির প্রধান হবেন। সচিব হবেন স্বাস্থ্য সচিব।

* এই কমিটি কাজ করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রনালয় কমিটির অধীনে, যার একজন সিইও বা প্রধান কর্মকর্তা থাকবেন। তিনি দ্রুততম সময়ে এই বিপদসংকুল সময়ে সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সমন্বয় করবেন। এই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত হবেন।

* কর্মী দরকার – স্বেচ্ছাসেবামূলক।

* রাজনৈতিক কর্মী ও তরুণরা হবে অংশগ্রহনকারী কর্মী। আরো থাকবে সকল এনজিও ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও সদস্যগণ।

* সারাদেশে প্রতিটি উপজেলাকে কেন্দ্র করে মোট ৫০০ + মানুষের দল তৈরী করতে হবে

জনবল:

* সকলের এনআইডি বা নিজের ফোন নং দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

* প্রত্যেকের রেফারেন্স হিসেবে অন্তত আরো দু’জনের নাম দিতে হবে।

* দেশে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই কাজে নিয়োজিত করতে হবে।

* প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক ডিজাস্টার আইন কার্যকর করে ডিজাস্টার এলাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।

প্রতিরোধমূলক কাজ:

* কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন সম্পর্কে লিফলেট বিতরন

* মাইকিং 

* সকলকে হাত ধোয়া ও সোশাল ডিসট্যান্সিং সম্পর্কে জানানো।

* সকলকে কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী থাকলে নির্দিষ্ট জায়গায় রিপোর্ট করতে বলা।

* সকলকে আশ্বস্ত করা।

* এলাকার দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটর করা, যাতে তারা ঠিক সময়ে খোলা ও বন্ধ করে।

* বিদেশ থেকে আগতদের সম্পর্কে তথ্য নিয়ে সেটা যথাযথ স্থানে জানানো।

* এলাকার পাবলিক এরিয়া জীবানুমুক্তকরণ

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো:

* এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে সেটা দ্রুত প্রেরণ।

* তাদের কাছে প্রতি সপ্তাহে দুবার খাবার পৌঁছানো।

* যারা একদম ছিন্ন মূল তাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু হোটেলে খাবার প্রস্তুত ও বিতরন।

* গ্লাভস ও মাস্ক দেয়া ও সেটা কিভাবে ফেলতে হবে সেটা শেখানো। 

* সাবান ও স্যানিটাইজার বিতরন।

* যারা অন্য কারনে অসুস্থ তাদের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেয়া।

* বৃদ্ধ যারা বয়স ৬০ এর ওপরে তাদের আলাদাভাবে তালিকা করে, বিশেষ যত্ন নেয়ার চেষ্টা।

* এলাকার কৃষক ও খামারে শ্রম দেয় যারা তাদের বিশেষভাবে রক্ষা করার চেষ্টা।

চিকিৎসা:

* সরকারী হাসপাতালে গরীবদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা

* সেখানে ট্রায়াজ করতে মেডিকেল ছাত্র ছাত্রী ও ছাত্ররাজনীতির সাথে লোকগুলোর পঞ্চম বর্ষ / ইন্টার্নদের যথাযথ পিপিই দিয়ে নিয়োজিত করা।

* বেসরকারী হাসপাতালগুলো থেকে সারাদেশে অন্তত ২০০ হাসপাতাল নির্বাচন করে সেখানে করোনা ইউনিট স্থাপন করতে সরকারকে বলি।

* দেশের বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনে দিতে বলা যেটা তারা আগামী ৩ বছর ট্যাক্সের সাথে অর্ধেক অর্থ কিস্তীতে সমন্বয় করতে পারবে।

* বেসরকারী হাসপাতালগুলোকেও একইভাবে ভেন্টিলেটর কিনতে বলা।

অর্থ দরকার কত?

* ৫০০ উপজেলায় ভলান্টিয়ারদের সংখ্যা হবে ৫০, ০০০।

* তাদের জন্য প্রতিদিন ৪০০ টাকা -২০ কোটি টাকা - মাসে ৬০০ কোটি টাকা।

* এটা লোকাল এমপি ও নেতারা বহন করবেন।

* ৫০০ উপজেলায় খাবার প্রদান – বাংলাদেশে মোট হতদরিদ্র মানুষ ২ কোটি ৪১ লাখ।

* সকলকে একদিন খাওয়ালে দরকার ৪৮২ কোটি টাকা।

* মোট একমাসে খরচ – ১৪৪৬০ কোটি টাকা।

চিকিৎসা ব্যায়:

* মোট আক্রান্ত যদি ১২ কোটি হয়, সবার জন্য আমাদের চিকিৎসা ব্যয় হবে না। তবে লকডাউন করলে এত রোগী হবে না। এর ৬ ভাগের একভাগেই হয়ে যাবে।

* মোট সেরে যাবে ৯ কোটি ৬০ লাখ।

* বাকি আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে যাবে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ লোক।

* এদের মধ্যে একদম হতদরিদ্র হবে প্রায় ৬০ লক্ষ।

* এদের জন্য চিকিৎসা বাবদ খরচ হবে – পিপিই - ৩০০ কোটি টাকা।

* ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ খরচ - ১০০০০ = ১৭৪০ কোটি টাকা।

* ওষুধ – ১৮০০ কোটি টাকা।

* মোট ৩৮৪০ কোটি টাকা – অন্যান্য সকল ব্যয় বাদে।

* স্বল্পতম কর ৫% এ করোনা সংক্রান্ত আমদানী করতে দেয়া মাস্ক ও অন্যান্য ফ্যাক্টরী স্থাপনে সহায়তা।

ওষুধ বিতরণ, বিক্রয় ও রোগী পরিবহন:

* এলাকার ফার্মেসীগুলো খোলা রাখা।

* যারা ওষুধ কিনতে আসবেন, সেখানেই তাদের ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর দেখা।

* সকল জিপিকে তাদের চেম্বার খোলা রাখতে বলা।

* সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা রাখা।

* দমকল বাহিনীকে অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রস্তুত রাখা।

* ছোট ট্রাকগুলোর উপরে ছাউনি দিয়ে দ্রুত রোগী হাসপাতালে নেয়ার জন্য ফিল্ড অ্যম্বুলেন্সে রুপান্তর।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:

* সকল হাসপাতাল থেকে করোনা বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ট্রেনিং ও ব্যবস্থা করা।

* ক্লিনারদের পিপিই প্রদান।

* এ কাজে সংযুক্ত সকলকে ট্রেনিং প্রদান।

* এলাকার করোনা বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য নিরাপদ স্থান নির্ধারণ ও মনিটরিং।

* করোনা আক্রান্ত বাসাগুলো থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সুইপারদের নিরাপত্তা প্রদান।

জনসংযোগ:

* দ্রুত স্বাস্থ্য বিধি সংক্রান্ত লিফলেট প্রস্তুত বিতরণ।

* টিভিগুলোতে টিকার চালালো।

* দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ডিসপ্লেগুলোতে প্রচারণা।

* এলাকা ভিত্তিক মাইকিং।

* প্রতি এলাকায় একটি মসজিদ থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর করোনা সংক্রান্ত তথ্য মাইকে বলা।

* ভলান্টিয়ারদের টিশার্ট দেয়া যেখানে হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব সংক্রান্ত ছবিসহ নির্দেশ দেয়া আছে।

স্বচ্ছলদের জন্য ব্যবস্থা:

* এলাকাতে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট তৈরী।

* হোম ডেলিভারী।

* শহর এলাকায় পাঠাও, উবারের সাহায্য নেয়া।

করোনা পরবর্তী পূণর্বাসন:

* চাষাবাদের জন্য ঋণের প্রদাণ।

*  কৃষি সহায়তা।

* ব্যবসা সহায়তা।

* আপাতত তিন মাসের জন্য ১০ শতাংশের নীচে কৃষিজমি ক্রয় বন্ধ করে রাখা যাতে মানুষ করোনার কারণে ভূমিহীন না হয়, বরং জমির বিনিময়ে ঋণ প্রদান করা।

মোট সম্ভাব্য ব্যায়:

* চিকিৎসাতে মোট-  ১০, ০০০ কোটি টাকা।

* অতিরিক্ত জনবল বাবদ - ১, ০০০ কোটি টাকা।

* যাতায়াত , খাদ্য ও অন্যান্য- ৫০০ কোটি টাকা

মোট -- ১১, ৫০০ কোটি টাকা।

* গরীবদের খাবার  -- ১৪, ৪৬০ X ৩ = ৪৩৩৮০ কোটি টাকা।

* ভলান্টিয়ারদের বাবদ-- ১, ৫০০ কোটি টাকা।

* অন্যান্য ব্যয় -- ৩, ৫০০ কোটি টাকা।

মোট= ৫৯, ৮৮০ কোটি টাকা।

গড় প্রাক্কলিত জনপ্রতি ব্যয়:

* মোট জনপ্রতি খরচ ৩, ৭৪২.৫০ টাকা।

* শক্ত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে ০=০=১০০=১০০ এই লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া ও ১০০ দিনের মধ্যে এটা অর্জন করা সম্ভব।

প্রস্তাবনার সম্পর্কে সংগঠনটির উপদেষ্টা ডা. আব্দুর নূর তুষার জানান, এই প্রস্তাবনা এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন মহলের দায়িত্বশীলদের কাছে একাধিকবার পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনার কিছু কিছু বিষয় গ্রহণ করা হলেও সামগ্রীক পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। প্রস্তাবনা বর্তমান সময় এবং অবস্থার প্রেক্ষিতে কিছু সংশোধন করে পুনরায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় যদি কাজ না করে তাহলে করোনা যেতে ৩ বছর লাগবে। কিন্তু যদি কাজ করে তাহলে করোনা যেতে ৩ মাস ১০ দিন লাগবে। একেকটা এলাকা লকডাউন করে লাল থেকে সবুজ করে লাভ হবে না। কারণ এক এলাকার লোক অন্য এলাকাকে আক্রান্ত করে ফেলবে। এক্ষেত্রে লাভ হবে না। তাই আমাদের প্রস্তাব, পুরো জেলাকে একত্রে লকডাউন করা।

রাজধানীর বস্তিগুলোতে করোনার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘বস্তিতে অনেক লোক আক্রান্ত হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশের মতো সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা পরীক্ষা করাচ্ছে না। ফলে তারা আক্রান্ত হলেও জানা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বস্তিগুলোকে লকডাউন করতে হবে। বস্তি থেকে কেউ বের হতে পারবে না, কেউ রোগ নিয়ে বস্তিতে আসতে পারবে না।

এফডিআরএস চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসানাৎ মিল্টন বলেন, কোভিড-১৯ শে আক্রান্ত হয়েছে মারা যাওয়া ৪৬ জন চিকিৎসকের মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সারাদেশে সকল স্বাস্থ্যকর্মী সহ সংশ্লিষ্ট সকল পেশার যারা শহিদ হয়েছে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। চিকিৎসিকদের নিরাপত্তারর স্বার্থে পিপিই প্রদান করার কথা বলেছিলাম। এছাড়া আমরা আরো অনেক পরামর্শ দিয়েছি। একটু দেরিতে হলেও আমাদের অনেক পরামর্শ গৃহীত হয়েছে। আমরা মনে করি, করোনার মতো বৈশিক মহামারীকে বৈজ্ঞানিক ভাবে মোকাবেলা করা উচিত।

এসময় তিনি দেশে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর নির্যাতন এবং হত্যার দ্রুত দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।

গণমাধ্যম ও প্রচার সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরানের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন, এফডিএসআরের চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসানাৎ মিল্টন, মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. রশিদুল হক, আইন সম্পাদক ডা অধ্যাপক নোমান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা ফরহাদ মঞ্জুর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক