১৫ মে, ২০২০ ০২:১০ পিএম

মাদারীপুরে করোনা জয় করে স্বাভাবিক জীবনে চিকিৎসক দম্পতি

মাদারীপুরে করোনা জয় করে স্বাভাবিক জীবনে চিকিৎসক দম্পতি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মরণব্যাধী করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে এসেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চিকিৎসক দম্পতি। একই সঙ্গে তাঁদের সাত বছরের একমাত্র মেয়েও করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সূত্র জানা গেছে, টানা ২৬ দিন করোনার সঙ্গে যুদ্ধের পর বুধবার দুপুরে মাহামুদাকে সুস্থ ঘোষণা করে মাদারীপুর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে তাঁর সাত বছরের একমাত্র মেয়েও করোনা থেকে সেরে উঠেছে। 

মাহামুদার করোনা শনাক্ত হওয়ার ছয় দিন আগে তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলামও করোনায় আক্রান্ত হন। নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি শিশু হাসপাতালের কর্মরত ওই চিকিৎসক এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

এই চিকিৎসক দম্পতি জানান, নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে মনে সাহস রেখেছেন। সুস্থ হওয়ার দৃঢ় আশা রেখেছেন। 

অসুস্থ হওয়ার পরও রোজা রেখেছেন জানিয়ে তারা আরও বলেন, ‘নামাজ পড়েছি, সৃষ্টিকর্তাকে মনেপ্রাণে স্মরণ করেছি। দোয়া চেয়েছি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে। সবার ভালোবাসা আর সহকর্মীদের অনুপ্রেরণায় আমরা সুস্থ হতে পেরেছি।’

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, ‘মনে সাহস রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা থেকে মুক্তি আসবেই।’ 

শিবচর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে মাহামুদা আক্তারের চিকিৎসক স্বামী শহিদুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ থেকে শিবচরে আসেন। পরে তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে গত ৯ এপ্রিল তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১১ এপ্রিল পাওয়া প্রতিবেদনে তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। 

এরপর গত ১৪ এপ্রিল স্বামীর সংস্পর্শে আসা স্ত্রী ও মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ১৭ এপ্রিল ল্যাব থেকে আসা নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাহামুদা ও তাঁর মেয়ের করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাঁদের বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গত এক সপ্তাহে মাহামুদা ও তাঁর মেয়ের চারবার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তিনবার ‘পজিটিভ’ এবং একবার ‘নেগেটিভ’ ফল আসে। এরপরই তাঁদের সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

ওই চিকিৎসক দম্পতির বাড়ি কুমিল্লায়। করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে মাহামুদার স্বামী শহিদুল ইসলাম শিবচরে তাঁর স্ত্রীর কর্মস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে চলে আসেন। তিনি সেরে উঠে স্ত্রী ও সন্তানের পাশে থেকে সেবাও করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে জেলার সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, শিবচরে চিকিৎসক মাহামুদার পরিবার এখন সুস্থ। যদিও তাঁর স্বামী আরও আগে সুস্থ হয়েছেন। বুধবার সুস্থ হয়েছেন মাহামুদা ও তাঁর মেয়ে। তবে তাঁরা আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। এরপর তাঁরা আবার সাধারণ কর্মজীবনে ফিরে আসতে  পারবেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক