বিপ্লব হোসেন

বিপ্লব হোসেন

এমবিবিএস (এস এস এম সি) এফসিপিএস (মেডিসিন)
মেডিকেল অফিসার,
৫০০ শয্যা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


১২ মে, ২০২০ ০৪:১৬ পিএম

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডিউটি করার সময় যা যা লাগবে

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডিউটি করার সময় যা যা লাগবে
প্রতীকী ছবি

এই পরিবর্তিত অবস্থায় অনেকেই করোনা রোগীদের চিকিংসা দিচ্ছেন, অনেকেই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডিউটি করছেন, অনেকের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নতুন পোষ্টিং হয়েছে সামনে হয়তো ডিউটি পড়বে। এখন যাদের করোনা হাসপাতালে ডিউটি পড়বে তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কিত কিছু কথা বলব। ইনশাআল্লাহ উপকারে আসবে (বিশেষ করে ঢাকার ক্ষেত্রে, ঢাকার বাইরের প্রকৃত অবস্থা জানিনা)।

প্রথমেই মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিবেন যে আপনি তিন সপ্তাহের জন্য বাসা থেকে বের হবেন। আপনার জন্য হোটেলে সিট বরাদ্দ থাকবে (আপাতত সব হোটেল গুলোই 3 star or above মানের)। এক সপ্তাহের রোস্টার ডিউটি থাকবে। হোটেল থেকেই গাড়িতে আনা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সবাই শুরুতেই হোটেলে উঠবেন কেউ প্রথম দিন হাসপাতাল হয়ে হোটেলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এক সপ্তাহের ডিউটি শেষে ৫-৭ দিন পরে আপনার করোনা টেস্ট করা হবে। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে আপনি তখন চাইলে বাসায় যেতে পারবেন। তার আগে বাসায় না যাওয়াই ভালো। তবে কারো বাসায় এটাচড বাথরুম এবং প্রবেশ ও বের হওয়া  সহ আলাদা আইসোলেশন রুম থাকলে আলাদা কথা।

হোটেলে যাওয়ার আগে আপনাকে কিছু জিনিস সাথে নিতে হবে-

১. মাস্কঃ সার্জিক্যাল মাস্ক যথেষ্ট পরিমান সাথে নিয়ে নিবেন। হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ১ টি সার্জিক্যাল ও একসাথে ৪ টি KN95 মাস্ক দেওয়া হবে। পরে আর KN95 মাস্ক দেওয়া হবে না। তবে কেউ ৪ টি N95 মাস্ক কিনে সংগ্রহ করে নিলে ভালো হয়।
২. ৪ টি কাগজের ব্যাগঃ ব্যাগ গুলো 1,2,3,4 আলাদা মার্ক করে নিবেন। এগুলোতে KN95/N95 মাস্ক গুলো আলাদা করে রাখবেন। ব্যবহারের পরে অবশ্যই ব্যাগের মুখ গুলো খোলা রাখবেন।
৩.গ্লাভসঃ হাসপাতাল থেকে সাপ্লায় আছে। তারপরেও আপনার সংগ্রহে রাখা ভালো। একটা বিষয় মনে রাখবেন হাসপাতালে সাপ্লায় থাকলেও যে কোন সময় সর্টেজের জন্য নাও পেতে পারেন(বিশেষ করে নাইট ডিউটির সময়)। তাই সর্তকতার জন্য নিজের সংগ্রহে কিছু থাকা ভালো।
৪. হেড কাভার, স্যু কাভার
৫. গগলস
৬. ফেস শিল্ডঃ ডিসপোজিবল হলে ভালো। RFL এর একটা আছে। খারাপ না। মূল্য ৩০/- প্রতি পিচ। 
৭. OT dress থাকলে অবশ্যই সাথে নিবেন। ২ সেট হলে ভালো হয়। কারো না থাকলে ট্রাউজার ও টি শার্ট সাথে নিয়ে নিবেন। মনে রাখবেন শার্ট প্যান্ট না পড়ে ot dress or T shirt পড়ে ডিউটি করা তুলনামূলক স্বস্তিকর ও সহজে ধোয়া যাবে। আর সাথে বেশী কাপড় না নেওয়ায় ভালো।
৮. টাওয়েল - হোটেল থেকে দিবে তারপরও নিতে পারেন।
৯. সাবান, পর্যাপ্ত ডিটারজেন্ট, মাঝারী সাইজের বালতি, স্প্রে বোতল।
১০. হেক্সিসল, তুলা, টিস্যু, micropore, প্রয়োজনীয় মেডিসিন ( anti histamine, paracetamol, PPI)
১১.পলিথিনঃ পর্যাপ্ত পরিমানে নিয়ে নিবেন। মোবাইল কাভার করা যায় এমন কিছু পলিথিন নিয়ে নিবেন।
১২. shopping bag: হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য কাজে লাগবে। পলিথিনেও নিতে পারেন। তবে অন্য ব্যাগ না নেওয়ায় ভালো।
১৩. লেবু, আদা
১৪.কঃ চা/কফি (হোটেল থেকে দিতেও পারে)
১৪.খঃ পানির কেটলিঃ হোটেলে আছে কিনা খোজ নিবেন, না থাকলে অবশ্যই সাথে নিবেন।
১৫. চাকু
১৬. শুকনা খাবার(কারো প্রয়োজনে নিতে পারেন)
১৭.জুতাঃ ওয়াশ করা যাবে এবং হাত দিয়ে খুলা লাগবে না এমন হলে ভালো হয়।
১৮. money bag, belt হাসপাতালে যাবার সময় না নেওয়ায় ভালো।
১৯. কুরআন শরীফঃ প্রচুর ফ্রী সময় পাবেন, তেলাওয়াত করবেন কাজে লাগবে, মন ভালো থাকবে।
২০. আয়রন/ স্ত্রি

হাসপাতালে ডিউটির সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেনঃ
- একসাথে টানা রোস্টার করবেন না(মর্নিং+ইভিনিং অর নাইট)। এক্ষেত্রে নিজের সতর্কতার প্রতি বেখেয়াল হয়ে যাবেন, ক্লান্ত হয়ে যাবেন।
- ডোনিং ডোফিং ঠিক মত শিখে আসবেন। প্রয়োজনে youtube দেখে শিখে আসবেন। মনে রাখবেন ডোফিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এখানেই infection এর সম্ভাবনটা বেশি।
- রোগী দেখার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন রুমের ফ্যান বন্ধ আছে কিনা এবং রোগী মাস্ক পরে আছে কিনা।
- পারতপক্ষে এক রোগীর কাছে বেশিক্ষণ অবস্থান করবেন না।
- ডোনিং অবস্থায় কখনও ডক্টরস রুমে আসবেন না।
- ডোনিং ডোফিং এ তাড়াহুড়া করবেন না।
** বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরন করুন, ধর্মীয় নিয়ম কানুন মেনে চলুন।  আল্লাহ আমাদের সহায় হন।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত