মুগদা মেডিকেলে বিশ্ব ফুসফুস দিবসে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ধূমপান থেকে বিরত থাকা, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধ, মুক্ত বাতাসে চলাচল, নিয়মিত শরীরচর্চচাসহ বিভিন্ন জরুরী বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুগদা মেডিকেল কলেজে (মুমেক) ‘সায়েন্টিফিক সেমিনার অন পালমোনোলজি আপডেট’ শীর্ষক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (চ্যাব) ও মুগদা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চ্যাবের সভাপতি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক এবং চ্যাবের মহাসচিব ডা. গোলাম সারওয়ার বিদ্যুৎ এবং মুমেকের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিএস স্পেশালিস্ট ডক্টরস ফোরামের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ আল আমিন এবং ২৫তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের সদস্য সচিব ডা. শাখাওয়াত হোসেন মিঠু।
সেমিনারে পালমোনোলজি বা বক্ষব্যাধি চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের সমসাময়িক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
মুমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোশারফ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, বাংলাদেশে ফুসফুসের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান, পরিবেশদূষণ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিউশন। এসব কারণে ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুসফুসের রোগ, বিশেষ করে সিওপিডির (সিওপিডি) পরিবর্তনশীল সমস্যা ও এর ব্যবস্থাপনার নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা।
কলেজে পালমোনোলজি চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মোশারফ হোসেন বলেন, কলেজে পালমোনোলজি বিভাগ রয়েছে। বিভাগটিতে আরও চিকিৎসক যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগে দুই-তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যতটা সম্ভব ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি মুক্ত বাতাসে চলাচল, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ ফুসফুস বজায় রাখা সম্ভব।
বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারের মাধ্যমে ফুসফুসের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমআই/