১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:২৯ পিএম

রোগীর চোয়াল ভাঙার অভিযোগে ঢাকা ডেন্টালের কর্মচারী আমিরুলকে অব্যাহতি, তদন্তে কমিটি

রোগীর চোয়াল ভাঙার অভিযোগে ঢাকা ডেন্টালের কর্মচারী আমিরুলকে অব্যাহতি, তদন্তে কমিটি
ভুক্তভোগী সবুজ, আমিরুল ইসলাম। (ছবিতে বাম দিক থেকে)

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগীর আক্কেল দাঁত ফেলতে গিয়ে চোয়াল ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের বয়েজ হোস্টেলের কর্মচারী আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে। এদিকে তদন্ত চলাকালীন সময়ে ওই কর্মচারীকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল আওয়াল মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সায়েন্স অব ডেন্টাল মেটেরিয়ালস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন ডা. আনোয়ার সোহেল ও ডা. সমীর কুমার বনিক। তারা দুজনেই ডেন্টাল কলেজে আলাদা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গঠিত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ওই কর্মচারীকে সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে সাত দিনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগের মূল বিষয় হলো—ওই কর্মচারী চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নিয়েছেন এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি-না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে যেহেতু আমাদের অফিসের একজন স্টাফ জড়িত, তাই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে দুটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। একটি হলো, ডাক্তার না হয়েও ডাক্তার পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া বা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো—তিনি লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।’

ডা. আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে তাকে অফিসের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

এ ধরনের অননুমোদিত চিকিৎসাচর্চাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অন্য কোনো গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে বিভাগীয় ব্যবস্থা, এমনকি বদলির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ও উপপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য নয়। ভবিষ্যতে কলেজের কোনো স্টাফ যেন চাকরির সুযোগ ব্যবহার করে চিকিৎসকের পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ বা অভিযোগের কপি আসেনি। তবে তদন্ত কমিটি অন্য কোনো অভিযোগ বা গুরুতর অনিয়মের তথ্য পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে আমিরুলের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সবুজকে আক্কেল দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, দাঁত তোলার সময় জটিলতা তৈরি হওয়ার পরও ব্যথা না কমায় পরে অন্যজনের কাছে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় দাঁতের গোড়া ও চোয়ালে সমস্যার কথা জানানো হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আমিরুল দাবি করেছেন, তার চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা হয়নি। বর্তমানে সবুজ অন্য চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মেডিভয়েস নিউজ রুম অনুষ্ঠানে পেশাজীবী নেতাদের মত

চিকিৎসকের নিরাপত্তায় নিহিত কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত