৮৮৯০৯ চিকিৎসকের জায়গায় কর্মরত ৩০৩১১ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক-জনসংখ্যা অনুপাতে দেশে ন্যূনতম ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত পদ আছে মাত্র ৪১ হাজার ৮০৬টি। আর এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে জবাব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুসারে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পূরণে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক দরকার। সে হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত পদের সংখ্যা মোট ৪১,৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০,৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ফলে ১১,৪৯৫টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের সময় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মীসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মোট কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কতজন চিকিৎসক কাজ করছেন—এই দুটি সংখ্যা এক নয়।
তিনি জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ এবং চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদও সৃষ্টি করা হবে।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
এমইউ/