১৬ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৫ পিএম

তিন বছরে সব উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিন বছরে সব উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো, নতুন জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলে আসায় সরকারি চিকিৎসাসেবার মান ব্যাহত হয়েছে। হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি এবং রোগীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে নয় তলা আধুনিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এসব হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করে আগামী তিন বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ১৫১ শয্যার হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২৫ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০ শয্যার আলাদা ওয়ার্ড রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েই কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনবল সংকট মোকাবিলায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া আরও আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার টেকনিশিয়ান নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে হেলথ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।

এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব কেন্দ্রের কর্মীরা মানুষের রক্তচাপ পরীক্ষা, স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করবেন।

মন্ত্রী জানান, শিশুদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে শিগগিরই ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি দেশের আট বিভাগে নারীদের চিকিৎসার জন্য আটটি ক্যানসার ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক