১৬ অগাস্ট, ২০২৬ ০৩:৩৯ পিএম

‘নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুর পুনর্বাসনে দক্ষ পেশাজীবী, সচেতন অভিভাবক জরুরি’

‘নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুর পুনর্বাসনে দক্ষ পেশাজীবী, সচেতন অভিভাবক জরুরি’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির পাশাপাশি সচেতন অভিভাবক গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ  বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের (ইপনা) উদ্যোগে ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার’র ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘যারা এই ট্রেনিং নিয়েছেন, অর্জিত জ্ঞানকে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’

এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য দক্ষ পেশাজীবী এবং সচেতন অভিভাবক তৈরি করা জরুরি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ থেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সন্তানদের সহায়তায় সক্ষম করে তুলবে।

ইপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।

তিনি বলেন, নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ রোগ থেকে সুরক্ষায় গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার সম্পর্কে ধারণা ও সঠিক চিকিৎসা-সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেন। তিনি প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জানা গেছে, বাংলাদেশে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সেবার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে। এই ব্যাচে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেরাপিস্ট, মনোবিজ্ঞানী, বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক এবং অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ইপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআই/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত