অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের বর্ণাঢ্য জীবন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা-গবেষণা থেকে পেশাজীবী সংগঠন ও রাজনীতি—বহুমাত্রিক অঙ্গনে কর্মময় পথচলা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতৃত্বের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত এই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। শনিবার (১৫ আগস্ট) দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়।
দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায়, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তার এই পথচলা হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক ও আলোচিত। এই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো।
কর্মময় জীবন
রাজধানী ঢাকার আমিনবাজারে জন্ম নিয়েছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত। শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, মেট্রোরেল এ আগুন, সেতু ভবনে হামলা ও ভাংচুর এর মতো আলোচিত মামলার আসামী এবং একাধিকবার কারাবরণ করা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন।
দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একইসাথে অধ্যাপক ড. ফারহাদ হালিম উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজের (ইউএএমসি) গভর্নিং বডিরও চেয়ারম্যান।
ক্যান্সার চিকিৎসায় পরিচিতি
অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দেশের পরিচিত ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের একজন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসার প্রসারে তার ভূমিকার কথাও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।
চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
চিকিৎসা সংগঠনে নেতৃত্ব
চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ডা. ডোনার দীর্ঘদিন ধরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে যুক্ত। তার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী, তিনি ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির রাজনীতিতেও রয়েছে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রাকটিশনার এসোসিয়েশন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন ও এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আর দায়িত্ব পালন করেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বাংলাদেশের সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চব্বিশের আন্দোলনে আটক
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ডা. ডোনারকে আটকের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের এক পোস্টে তার স্ত্রী ডা. সিমকী এক খোলা চিঠিতে দাবি করেন, ২৮ জুলাই বিকেলে কোনো ওয়ারেন্ট প্রদর্শন ছাড়াই সরকারি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে
২০২৫ সালের জুনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ডা. ডোনার। বিএনপির মিডিয়া সেলের ১৯ জুনের পোস্ট অনুযায়ী, ১৮ জুন সকালে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ওই সময় জানানো হয়, তিনি হাইপোভোলেমিক শক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের জটিলতায়ও ভুগছিলেন তিনি।
ঢাবির সিন্ডিকেট সদস্য
চিকিৎসা ও রাজনীতির বাইরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. ডোনার। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হন। এছাড়াও জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর প্রকল্প পরিচালক এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে জায়গা
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত পথচলার পর এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন ফরহাদ হালিম ডোনার। দলটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।
এমআই/এমইউ