এফসিপিএসে নতুন নিয়ম
পারিতোষিক না দিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ গ্রহণযোগ্য হবে না
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) স্বীকৃত বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের নিয়মিত ভাতা দিবে প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে অনারারি (অবৈতনিক) ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ করালে, সেই প্রশিক্ষণকাল বিসিপিএসের ফেলোশিপ পরীক্ষার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
গত ২৮ বিসিপিএস সচিব (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এফসিপিএস ১ম পর্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসকগণ কলেজ কর্তৃক স্বীকৃত দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রাইভেট হাসপাতালসমূহে বিভিন্ন বিষয়ে ‘প্রশিক্ষণার্থী’ হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।’
তবে এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলী আবশ্যিকভাবে প্রযোজ্য হবে। যথা—প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী চিকিৎসকদেরকে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত পারিতোষিক (ভাতা) প্রদান করতে হবে। কোনো চিকিৎসক বেসরকারি বা প্রাইভেট হাসপাতালসমূহে অনারারি (অবৈতনিক) হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, তবে বিসিপিএসের ফেলোশিপ পরীক্ষায় সেই প্রশিক্ষণকাল গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ নিয়ম আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও এতে বলা হয়।
বিসিপিএসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘মেধা অনুযায়ী সুযোগ পাওয়ার পরও কোনো প্রশিক্ষণার্থী সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে আগ্রহী হন না, নিজের সুবিধা মতো পাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে চান। এ ক্ষেত্রে বিসিএসে প্রশিক্ষণ গণ্য হয়, এমন মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে প্রশিক্ষণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তার পারিতোষিক দেবে। এটা সরকারি নির্ধারিত পয়ত্রিশ হাজার টাকা হতে হবে। কেউ চাইলেও এর বেশিও দিতে পারেন।’
বিষয়টি পরিষ্কার করে আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘ধরেন, এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষায় পাস করার পর একজন প্রশিক্ষণার্থী এনাম মেডিকেল কলেজে মেডিসিন ডিপার্টমেন্টে প্রশিক্ষণ নিতে চান। দুই বছর ট্রেনিং কাউন্ট হয়। তার বাড়ি ওখানে, তাই তিনি পার্ট-১ পাস করে ট্রেনিংটা এনামে করতে চান। তিনি ওখানে জয়েন করলে কি হিসেবে জয়েন করবেন? মেডিকেল অফিসার বা এ রকম কোনো পোস্টে। তো সেই পোস্টের তো বেতন আছে এবং সেই বেতনটা ধরেন কোনো প্রতিষ্ঠানে ৩৫ হাজারেরও বেশি। সে বেতনটা পাচ্ছে, তাহলে তাকে তো আর আলাদা কোনো পারিশ্রমিক বিসিপিএস থেকে দিতে হচ্ছে না।’
‘প্রতিষ্ঠান যদি পারিশ্রমিক দেয়, তাহলে এটা কাউন্ট হবে। আর বিসিপিএস অনুমোদিত যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, তারা সবাই এ রকম বেতন দিয়েই রাখবে। এখন কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে যে, আমরা বেতন দিব না, অনারারি হিসেবে তাকে কাজ করাবো, তাহলে সেটা কোর্স হিসেবে গণ্য হবে না। এটা বরং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আরও ভালো হয়েছে’—সূত্র জানায়।
উচ্চরত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় রত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিসিপিএস অনারারি প্রশিক্ষণ অনুমোদন করলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বরং সেটার সুযোগ নিত। সুযোগ দিয়ে তাদেরকে টাকা দিত না, না দিয়ে দুই বছর প্রশিক্ষণ করাতো। প্রশিক্ষণার্থী বেকায়দায় পড়ে সেই প্রশিক্ষণটাই নিতো।
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন প্রতিষ্ঠানও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসককে বেতন দিতে বাধ্য হবে, যদি তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি চালু রাখতে চায় অথবা সে ট্রেনিং পেতে চায়। কারণ স্বাভাবিকভাবেই যেখানে কোর্স গণ্য হবে না, সেখানে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক যোগ দেবেন না। আগের নিয়মে থাকলে, টাকা না দিলেও সে তার সুবিধার জন্য সেখানে প্রশিক্ষণ নিতো। কিন্তু এখন এটা করবে না। এটা প্রকারান্তরে প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ভালোই।
জেএইচ/এমইউ