২১ জুন, ২০২৬ ০৫:৩৪ পিএম

রামেকে মদ-গাঁজা সেবনে বহিষ্কৃত ইন্টার্নি হলেন নতুন কমিটির সহ-সভাপতি

রামেকে মদ-গাঁজা সেবনে বহিষ্কৃত ইন্টার্নি হলেন নতুন কমিটির সহ-সভাপতি
২০২৪ সালে মদ-গাঁজা ও কনডমসহ ধরা পড়েন বর্তমান রামেক ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। এতে হোস্টেল কক্ষে মদ ও গাঁজা সেবন এবং জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রীসহ ধরা পড়ে সিট বাতিল ও বহিষ্কারের শিকার ইন্টার্ন চিকিৎসক সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারন সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট নতুন এই কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে ডা. আমরি মিমকে সভাপতি ও মো. রিমন আলীকে সাধারণ সম্পাদক এবং বাহারুল ইসলাম লিমনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে এক অভিযানে মাদকদ্রব্য ও জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রীসহ ধরা পড়েন মো. মিজানুর রহমান। তিনি সর্বশেষ রামেক ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মিজানকে দেয়া এক চিঠিতে তার সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। একই সঙ্গে ৬ মাসের জন্য তার ইন্টার্নশিপও স্থগিত হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এই হাসপাতালের শহীদ জামিল আখতার রতন ইন্টার্ন হোস্টেলের ৩০০১ নম্বর রুম থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ অনুভূত হলে তৃতীয় তলার তৎকালীন অবস্থানরত সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক ৩০০১ নম্বর রুমে প্রবেশ করলে সেখানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আপনাকে (ডা. মো. মিজানুর রহমান) পাওয়া যায়।’

‘পরবর্তীতে ৩০০১ নম্বর রুম থেকে গাজা ভর্তি সিগারেট বিদেশি মদের বোতল জন্মনিয়ন্ত্রক কনডম ও অন্যান্য অপ্রত্যাশিত জিনিসপত্র পরিলক্ষিত হলে তখন বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাটি এই হাসপাতালের পরিচালককে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আপনাকে (ডা. মো. মিজানুর রহমান) এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আপনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।’

‘এরপর পরিচালকের কার্যালয়ের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আপনাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। উক্ত কৈফিয়তে যে, জবাব আপনি প্রদান করেছেন, তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। তদন্ত কমিটির উৎঘাটিত তথ্যের ভিত্তিতে আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও ডিসিপ্লিনারী কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইন্টার্নি ডাক্তার (শৃংখলা ও আচরণ) বিধিমালা ১৯৯৮ অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো’, বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এরপর তার বিরুদ্ধে শহীদ জামিল আখতার রতন ইন্টার্ন হোস্টেলে ২০০১ নম্বর রুমে আপনার (ডা. মো. মিজানুর রহমান) বরাদ্দকৃত সীট বাতিল, ছয় মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ ট্রেনিং হতে বরখাস্ত এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরণের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড করবেন না মর্মে একটি মুচলেকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।

এমআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত