পাকস্থলিতে দেড় কেজি ওজনের চুলের কুন্ডলী: বিএমইউর চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে অপসারণ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী এক কিশোরীর পাকস্থলিতে দীর্ঘদিন জমে থাকা চুলের বিশাল আকৃতির কুন্ডলী অপসারণ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চিকিৎসকরা। দেখতে কিছুটা লম্বাটে এ কুন্ডলীর ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল সার্জারি বিভাগে অধ্যাপক ডা. আব্দুল কালাম চৌধুরীর নেতৃত্বে জটিল এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও নানা ধরনের জিনিস খাওয়ার অভ্যাস থাকে কারও কারও। মনস্তাত্ত্বিক কিছু কারণে এমন সমস্যা হয়ে থাকে, এই স্বাস্থ্য সংকট চিকিৎসা বিজ্ঞানে ট্রাইকোবেজোয়ার নামে পরিচিত।
তবে দীর্ঘদিন চুল খেতে খেতে পাকস্থলীতে জমাট বাঁধা চুল পাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে বিরল বলেও জানান তারা।
সার্জারি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, ট্রাইকোবেজোয়া আক্রান্ত রোগীদের চুল খাওয়ার বিষয়টি নিজের অজান্তে অভ্যাসে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এই অবস্থা চলার কারণে রোগীর পাকস্থলিতে চুলের বিশাল কুন্ডলী তৈরি হয়।
সফল অস্ত্রোপচারের অনুভূতি জানিয়ে ডা. আবুল কালাম মেডিভয়েসকে বলেন, অনুভূতিটা আনন্দের। প্রায় দুই বছর যাবৎ সাঞ্জিদা চুল খেয়েছে। চুলের পাকানো কুন্ডলীটা বড় হয়ে পুরো পাকস্থলিটা ভরে ফুলে গিয়েছিল। যখন সে আর খেতে পারে না তখন হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়। অপারেশনে বের করা কুন্ডলীর ওজন ছিলো প্রায় দেড় কেজি।
চার-পাঁচ দিন আগে রোগী ভর্তি হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘রোগী দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দুই দিনের মধ্যে আমরা এন্ডোস্কপি করি। পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে আমরা অপারেশন করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে চার দিনেই সে সার্জারিতে চলে গেছে।’
রোগের উপসর্গ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই রোগটি মানুষের নিজের অজান্তে চুল খাওয়ার কারণে হয়। চুল পাকস্থলিতে জমে ‘পাখির বাসার’ মতো কুন্ডলী তৈরি করে। ফলে খাদ্য হজম বাধাগ্রস্ত হয় এবং রোগী স্বাভাবিকভাবে খেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যাটি এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সমাধান করা যায়। তবে চুলের কুন্ডলী অনেক বড় হলে একমাত্র সমাধান পেট কেটে অপসারণ। আজকের রোগীর প্রথমে আংশিকভাবে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে কুন্ডলী বের করা হয়েছে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কুন্ডলী অপসারণ করতে পেট কেটে অপারেশন করা হয়েছে।
গত ১৭ মে বিএমইউর ল্যাবে এন্ডোস্কোপিতে রোগের চিত্র দেখে সংশিষ্ট বিভাগের সবাই বিস্মিত হয়ে যান। সফল অপারেশনের মাধ্যমে চুলের কুন্ডলী বের করে আনায় নতুন জীবনের আশা ফিরে পেয়েছেন সানজিদা।
অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারে অংশ নেয় চার চিকিৎসক। এর মধ্যে ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ওমর ফারুকসহ আরও চার রেসিডেন্ট চিকিৎসক।
এই সাফল্য সম্পর্কে অস্ত্রোপচার দলের সদস্যরা জানান, এ ধরনের অপারেশন শুধু দক্ষ হাতের কাজ নয়, বরং এটি মানসিক শক্তি, অভিজ্ঞতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং রোগীর জীবনের প্রতি গভীর মমত্ববোধের প্রতিচ্ছবি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের মেয়ে সানজিদা এসএসসি পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হন। তার মা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা।
এমআই/এমইউ