চীনে ট্রাম্পের সফরকালে ডব্লিউএইচওর সম্মেলনে যোগদানে তাইওয়ানের উপর বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী ১৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, আসন্ন ডব্লিউএইচওর বার্ষিক সম্মেলনে তাইওয়ানকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। তবে তাইওয়ান বলছে, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেলেও তারা জেনেভায় প্রতিনিধিদল পাঠাবে এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে। চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে এমন সময়ে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে, যখন মার্কিন পেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের সফরে চীনে অস্থান করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের দাবি তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণচীনই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। এই অবস্থানের কারণেই তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামে অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রশ্নে অনড় রয়েছে। বেইজিং মনে করে, এই অবস্থানই তাইওয়ানের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ভিত্তি নষ্ট করেছে। চীন আরো বলছে, এক চীন নীতি রক্ষায় তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে তাইওয়ান চীনের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাইওয়ানের দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই। তাইওয়ান নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক স্বশাসিত ভূখণ্ড হিসেবে দেখলেও, চীন দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
তাইওয়ানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিহ চুং-লিয়াং বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য ইস্যুতে তাইওয়ান অনুপস্থিত থাকবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে সভায় যোগ দিতে না পারলেও তিনি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে জেনেভায় যাবেন, সেখানে তাইওয়ান নিজস্ব অনুষ্ঠান আয়োজন করবে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুংও জেনেভায় যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
তাইওয়ান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছিল। সে সময় তাইওয়ানে মা ইং-জিউ প্রশাসন ক্ষমতায় ছিল এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে সাই ইং-ওয়েন ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি চীন ও তাইওয়ান একই চীন—এই কাঠামো মেনে নেননি। এরপর ২০১৭ সাল থেকে বেইজিং তাইওয়ানের অংশগ্রহণ আটকে দেয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেও একই নীতি অনুসরণ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মধ্যেই তাইওয়ানের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চাইনিজ কাউন্টার পার্ট শি জিন পিং দু দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন দূর করার কথা বললেও, তাইওয়ানের উপর চীনের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব সহজেই দূর হচ্ছে না।
এইউ/এমইউ/