১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৪ এএম

করোনায় প্রাণোৎসর্গকারী দেশের প্রথম চিকিৎসক মঈনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

করোনায় প্রাণোৎসর্গকারী দেশের প্রথম চিকিৎসক মঈনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
করোনায় সম্মুখযোদ্ধা ডা. মঈন উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল)। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম প্রাণোৎসর্গকারী চিকিৎসক মঈন উদ্দিন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

আজকের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।

করোনাকালে যখন সারাদেশ আতঙ্কিত তখনও চিকিৎসা সেবা প্রদান করছিলেন অকুতোভয় এ সম্মুখযোদ্ধা। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল ও চেম্বারে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। 

করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে নিজেই প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন। প্রথমে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল এবং পরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

সর্বশেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের এই দিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই করোনাযোদ্ধা।

ডা. মঈনের মৃত্যুতে সে দিন চিকিৎসক সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। কেঁপে উঠে স্বাস্থ্যখাতসহ গোটা দেশ।

জন্ম ও পরিবার

ডা. মঈন উদ্দিন আহমদের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২ মে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নাদামপুর গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। বাবা মরহুম পল্লী চিকিৎসক মুনসী আহমদ উদ্দীন। সহধর্মিণী ডা. চৌধুরী রিফাত জাহান। দুই ছেলে জিহাদ ও জায়ান।

ডা. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী ডা. রিফাত জাহান সিলেটের বেসরকারি পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।

শিক্ষা ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

গ্রামের স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন মঈন উদ্দিন। পরে ছাতকের নতুন বাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। একই বছর ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি এফসিপিএস ও এমডি কোর্স সম্পন্ন করেন।

২২তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালের ২০ মে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা যান তিনি।

করোনা মহামারিতে তৎপরতা

ডা. মঈন উদ্দিন করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে গঠিত করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। আর আগে তিনি এ হাসপাতালের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটিসহ আরো কয়েকটি কমিটির দায়িত্ব পালন করেন।

সপ্তাহে একদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান

পল্লী চিকিৎসক বাবা মুনসী আহমদ উদ্দীনের নির্দেশনা মেনে এলাকার অসহায় রোগীদের নিয়মিত সেবা দিতেন ডা. মঈন উদ্দিন আহমদ। এজন্য প্রতি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে সিলেট থেকে নিজ গ্রাম নাদামপুরে ছুটে যেতেন তিনি। বিনামূল্যে গরিব অসহায়দের ব্যবস্থাপত্র দিতেন এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত মঈন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন তিনি। ধর্মপরায়ণ ডা. মঈন উদ্দিন আহমদ ছিলেন দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার কাছে অসম্ভব প্রিয়।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নম্বরের কথা চিন্তা করে পড়াশোনা করিনি: ডা. জেসি হক
এমআরসিপিতে বিশ্বসেরা বাংলাদেশি চিকিৎসক

নম্বরের কথা চিন্তা করে পড়াশোনা করিনি: ডা. জেসি হক