০৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৮:১৭ পিএম

‘স্বল্পমূল্যে সেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হেলথ একাউন্টিং অপরিহার্য’

‘স্বল্পমূল্যে সেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হেলথ একাউন্টিং অপরিহার্য’
বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আপমার ওয়েবিনার।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসা ও গবেষণার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে হেলথ একাউন্টিং অপরিহার্য। দেশের অনেক রোগী চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ ব্যয় জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে এশিয়া প্যাসেফিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিং এ্যাসোসিয়েশন (আপমা) ও বিএমইউর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) স্বাস্থ্যসেবাখাতকে সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করা এবং রোগীদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিতে করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আপমার আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনার্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্বাস্থ্যখাতে কর্পোরেট যোগাযোগ ও হিসাবরক্ষণে উদ্ভূত বিষয়সমূহ ও ডিজিটাল যুগে উদ্ভাবন, সততা ও জবাবদিহিতা থিম নিয়ে আয়োজিত এই ওয়েবিনার্সে স্বাস্থ্যখাতে হেলথ একাউন্টিং, হেলথ ইকোনোমিক্সের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনার্সের প্যানেল এক্সপার্ট বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম ‘একাউন্টিং ফর হেলথ’ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার পাশাপাশি প্রত্যেকটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে হেলথ একাউন্টিং বিষয়ের গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। 

এই ওয়েবিনার জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব এবং ব্যয় পরিমাপ করা, রাজস্ব বরাদ্দ, অপচয় চিহ্নিত করা, হিসাবরক্ষণের প্রতিবেদন তৈরি করা, ক্ষতিপূরণ ট্র্যাক করা, বাজেট তৈরি করা, আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করা—ইত্যাদিতে একজন হিসাবরক্ষক বিরাট ভূমিকা পালন করেন। প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রসমূহে ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিংয়ের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারলে দেশের মানুষকে এ থেকে অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

অন্য বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ ব্যয় জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। দেশের অনেক গরিব রোগীরা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ম্যানেজমেন্ট হেলথ একাউন্টিং বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বল্প ব্যয়ে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সময়েরই দাবি, যা পূরণে অবদান রাখবে আজকের এই ওয়েবিনার। একই সাথে স্বাস্থ্য বাজেটসহ সঠিক বাজেট প্রণয়ন, স্বাস্থ্য বাজেটের সদ্ব্যবহার, স্বাস্থ্যসেবা খাতের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ আর্থিক সেবাখাতকে গতিশীল করবে এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার্স।

ওয়েবিনারে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এবং বাংলাদেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ দুই শত পঞ্চাশের অধিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিংসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারে এশিয়া প্যাসেফিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার অব দ্য বোর্ড ডিরেক্টরস ইমেরিটাস অধ্যাপক সুসুমু ইনো, ওয়েবিনারের চেয়ার, এ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ চাপ্টারের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম, ওয়েবিনার কো-চেয়ার হিসেবে বিএমইউ এর সম্মানিত প্রো-ভাইস (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, আপমা সদস্য বিএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সে পোস্টার প্রেজেনটেশন ইভেন্টে জুরি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। দেশের প্রথম এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ চাপ্টারের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম। 

ইন্টিগ্রিটি ইন করপোরেট কমিউনিকেশন সেশনে কি-নোট স্পিকার ছিলেন মালয়েশিয়ার ইমেরেটাস অধ্যাপক ড. নরমাহ ওমর, সিমএ এবং জাপানের অধ্যাপক ড. মাসুমি নাকাশিমা। এই সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন থাইল্যান্ডের সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্যানিটসরন টেরডপাওপং, সিএমএ (Dr. Kanitsorn Terdpaopong, CMA) ও বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী।

একাউন্টিং ফর হেলথ সেশনে প্যানেলিস্টের দায়িত্ব পালন করেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের অধ্যাপক ড. শাহজাদ উদ্দিন। এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। রিসার্চ এ্যাসিসট্যান্ট রাহিক ফারহানের সঞ্চালানায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনার্সে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ও বক্তব্য রাখেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত