২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৩:৪২ পিএম

ছয় লাখের বিপরীতে প্যালিয়েটিভ সেবা পান ০.৫% রোগী, ব্যাপ্তি ঘটানোর দাবি

ছয় লাখের বিপরীতে প্যালিয়েটিভ সেবা পান ০.৫% রোগী, ব্যাপ্তি ঘটানোর দাবি
বিএমইউতে ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার রোগীদের যত্ন নেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ: সহানুভূতি, যত্ন এবং নিরাময় শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে প্রতি বছর কমপক্ষে ছয় লাখ মানুষের উপশমকারী যত্নের (প্যালিয়েটিভ সেবা) প্রয়োজন হলেও পান মাত্র ০.৫ শতাংশ রোগী। যাদের রোগ অনেকাংশে বা সম্পূর্ণরূপে অনিরাময়যোগ্য সেসবে আক্রান্তদের যন্ত্রণামুক্ত সময় উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে প্যালিয়েটিভ সেবা সম্প্রসারণ ও এর গবেষণা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার রোগীদের যত্ন নেওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ: সহানুভূতি, যত্ন এবং নিরাময়’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার এসব কথা বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে সেমিনারে জানানো হয়, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৬.৮ মিলিয়ন মানুষের প্যালিয়েটিভ সেবার প্রয়োজন হয়, যাদের মধ্যে ১৪ শতাংশ এই সেবা পান। বাংলাদেশে প্রতি বছর কমপক্ষে ছয় লাখ মানুষের উপশমকারী যত্নের (প্যালিয়েটিভ কেয়ার) প্রয়োজন হয়। তবে মাত্র ০.৫ শতাংশ এই সেবাটি পায়। তাই প্যালিয়েটিভ সেবার ব্যাপ্তি ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৃত্যুপথযাত্রী মারাত্মক অসুস্থ রোগী, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা শয্যাশায়ী রোগী, বয়সের দুর্বলতা এবং একাধিক রোগে ভোগা শয্যাশায়ী বয়স্ক রোগী, জীবন সীমিতকারী শিশু রোগী ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী; যাদের রোগ নিরাময় অনেকটা বা সম্পূর্ণরূপে অনিরাময়যোগ্য সেই ধরনের রোগীদের প্যালিয়েটিভ সেবার প্রয়োজন হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, মৃত্যুর আগে সেবা ও যত্নের মাধ্যমে রোগীকে যন্ত্রণামুক্ত বেদনাহীন সময় উপহার দেয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে উন্নত প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিশ্চিত করাসহ প্যালিয়েটিভ সেবা সম্প্রসারণ ও গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মেডিসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্যালিয়েটিভ মেডিসনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. মতিউর রহমান ভূঁইয়া। প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার আলম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হেমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আমিন ইসলাম।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত