বিএমইউ ভিসি
‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মেডিকেল উচ্চশিক্ষা ও সেবা ব্যাহত হচ্ছে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে মেডিকেল উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। একইসাথে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ-২০২৫’-এ অধ্যাপক শাহিনুল আলম এসব কথা বলেন। ‘উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সমৃদ্ধ দেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বণিক বার্তা।
আগামীতে নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রাজনৈতিক নেতারা। এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বিএমইউ ভিসি অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, ‘এক বছর আগে বলেছিলাম যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার যেদিন হবে, সেদিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতি হবে। বর্তমানে জিডিপির ১% স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমরা পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট পেয়েছি যে, বাজেটে জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হবে। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় চিকিৎসা সেবার তুলনায় মেডিকেল শিক্ষা পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক শাহিনুল আলম। বলেন, ‘আমাদের সুপার স্পেশালিটি চিকিৎসা সেবা আসলে...সেবা ও শিক্ষার তুলনামলূক জায়গায় গিয়ে শিক্ষা পিছনে পড়ে যাচ্ছে। এ কারণে আমাদের কোয়ালিটি হ্রাস করছে। যদি রেফারেল সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা যেতাম, তাহলে আমাদের এ অবস্থার উন্নতি হতো।’
মেডিকেল উচ্চশিক্ষা কী অবস্থায় আছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিএমইউ ভিসি বলেন, ‘দুই হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮১% বলেছে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। আমরা ভাবলাম, রেসিডেন্টরাই খালি বলছে, শিক্ষকরা কী বলেন? শিক্ষকরাও একই কথা বলেছে। সেবার চাপে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম নিচের দিকে চলে যাচ্ছে, একই সাথে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আমাদের এই উচ্চতর শিক্ষা ও উচ্চতর সেবাকে ব্যাহত করছে।’
চিকিৎসা শিল্প ও চিকিৎসকদের মধ্যে ‘আনহেলদি রিলেশনশিপ’ কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেন, ‘আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে যে এটি বাড়ছে। আর এই চাপটি আমাদের রোগীদের উপর গিয়ে পড়ছে।’
উদাহরণ প্রসঙ্গে বিএমইউ ভিসি বলেন, ‘হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ওষুধ আমাদের দেশে পৃথিবীর সর্বনিম্ন দামে পাওয়া যেত। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি অনুষ্ঠানে তারা দাবি করেছিল যে আমাদের প্রতিবেশী দেশে সবচেয়ে কম দাম। এটি ২০১৮ সালে। আমি তখন উঠে বলেছিলাম—না, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দাম। তখন ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি বলছিলেন, এখানে বাংলাদেশের লোক আছে আমি জানতাম না। জানলে আমি বাংলাদেশের কথাই বলতাম। কিন্তু আজকে আমি দাবি করতে পারছি না যে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ওষুধ বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দাম।
তিনি বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় চিকিৎসকদের, পেশাজীবীদের এবং চিকিৎসাকর্মীদের নৈতিক অবস্থানকে আমাদের এড্রেস করা লাগবে। কারিকুলামের মাধ্যমে হোক, নিয়মের মাধ্যমে হোক, প্রশাসনের মাধ্যমে হোক—কোনো না কোনোভাবেই এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
এনএআর/
-
২১ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
২৫ নভেম্বর, ২০২৫
-
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
৩০ অগাস্ট, ২০২৫
-
২১ অগাস্ট, ২০২৫
মতবিনিময় সভায় বিএমইউ ভিসি
‘বহির্বিভাগকে চিকিৎসাসেবার উৎকৃষ্ট মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে’