দেশে দুই রোগীর দেহে প্রথম ভেনাস পি-ভাল্ব ও দ্বিতীয়বার মাই ভ্যাল প্রতিস্থাপন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রথমবারের মতো বিনা অস্ত্রোপচারে দুই শিশুর দেহে হৃদযন্ত্রের ভেনাস পি-ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) একটি ও বুধবার (২০ আগস্ট) আরেকটি ভেনাস পি-ভাল্ব প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে দ্বিতীয়বারের একটি মাই ভ্যাল প্রতিস্থাপন ও প্রথমবারের মতো এসভিএস স্টেন্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে এসব ভাল্ব প্রতিস্থাপন ও স্টেন্টিং হয়।
এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন প্রখ্যাত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ কুরেশি ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক নূরুন্নাহার ফাতেমা।
এদিকে ১৯ ও ২০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি কংগ্রেসে (এনসিআইপিসি) লাইভ ওয়ার্কশপে শিশু হৃদরোগের জটিল ও আকর্ষণীয় প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জনরা।
কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ রাজধানীর রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেন দেশি ও বিদেশি বিপুল সংখ্যক ইন্টারভেনশনাল শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং শিশু হৃদরোগ সার্জনগণ।
এর আগে ১৯ আগস্ট সকালে রিজেন্সিতে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডা. নূরুন নাহার ফাতেমার উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেসের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রখ্যাত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ কুরেশি (ইভেলিনা চিলড্রেন হাসপাতাল, লন্ডন, যুক্তরাজ্য)।
শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে তাঁকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করেন উদ্বোধনী ও আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
এ সময় অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ কুরেশি তাঁর কর্মজীবনের সূচনা থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরেন, যা তরুণ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুপ্রাণিত করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউট চিফ কনসালট্যান্ট কার্ডিলজিস্ট অধ্যাপক ডা. ফজিলাতুন্নেসা মালিক, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের (বিএনএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ডিএমএস ও কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল শাফি মজুমদার।
শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন অনুষ্ঠানে আগত বিশেষ অতিথিবৃন্দ। তারা বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। বর্তমানে কেবল ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে এই বিশেষায়িত চিকিৎসা সীমাবদ্ধ থাকায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে।
কংগ্রেসে দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং আলোচনার পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।
কংগ্রেসে আয়োজিত লাইভ ওয়ার্কশপে শিশু হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়, যা সরাসরি ক্যাথ ল্যাব থেকে সম্প্রচারিত হয়। এ ছাড়াও প্রায়োগিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তিনটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হয়। সেগুলো হলো—মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন, সেন্ট্রাল লাইন ইনসারশন ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি।
এতে মোট ১১০ জন প্রশিক্ষণার্থী অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক নূরুন্নাহার ফাতেমা সকল অংশগ্রহণকারী আলোচক ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই কংগ্রেস বাংলাদেশের শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার উন্নয়ন যাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।