১১ অগাস্ট, ২০২৫ ০৪:৩৪ পিএম

শেবাচিম হাসপাতালের সংকট কাটতে সর্বোচ্চ তিন মাস লাগবে: পরিচালক

শেবাচিম হাসপাতালের সংকট কাটতে সর্বোচ্চ তিন মাস লাগবে: পরিচালক
সংবাদ সম্মেলনে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সংকট কাটতে এক থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। আজ সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নসহ তিন দফা দাবিতে টানা ১৫ দিন ধরে চলমান আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ জুলাই এই আন্দোলন শুরু করে বরিশালের ছাত্র-জনতা। গত ৭ আগস্ট আন্দোলন গড়ায় ব্লকেড কর্মসূচিতে। ইতোমধ্যে এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অংশ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তাদের তিন দফা দাবি হলো—শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল পরিচালক ডা. একেএম মশিউল মুনীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে আমার একটিই অনুরোধ, একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। এটি রাতারাতি সম্ভব না। রাতারাতি তো বিল্ডিং করা যায় না, ইকুয়েপমেন্টও কেনা যায় না, লোকও নিয়োগ দেওয়া যায় না। এটি একটি প্রসেসের ব্যাপার। একটু সময় দিতে হবে। মিনিমাম এক মাস, সর্বোচ্চ তিন মাস।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যা আছে যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব, আর কিছু আছে জাতীয় পর্যায়ের ব্যাপার। স্থানীয় সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। সেটা আমরা নিচ্ছিও ইতোমধ্যে। সবচেয়ে বড় সমস্যা কোথায় আমাদের? আমাদের এই হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার একটি স্থাপনা। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া আছে এক হাজার শয্যার। আর রোগী থাকে আড়ায় হাজার। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুযোগ-সুবিধা যদি না বাড়ান, তাহলে কী হবে? যেটা হয়, বাইরের দিকে রোগী চলে যাবে।’

এটিকে ‘মূল সমস্যা’ আখ্যা দিয়ে পরিচালক বলেন, ‘ফলে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেইনটেইন করতে পারছি না, টয়লেড ওভারলোডেড হয়ে যাচ্ছে, ডিসপেনসারিতে ওষুধ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমনকি ল্যাব রি-এজেন্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো তখন দালাল এবং সিন্ডিকেট তৈরি করছে।’

‘মাঝখানে প্রায় দুই মাস আমি হজে থাকার কারণে আমার কাজ একটু পিছিয়ে গেছে’—যোগ করেন তিনি। বলেন, ‘আসার পরে আমি পুরো উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। এজন্য অনেকের হয়তো সমস্যাও হচ্ছে। কিন্তু আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ—এই হাসপাতালটি আমাদের সবার, দক্ষিণাঞ্চলে এটি ছাড়া কোনো পথ নেই। শের-ই-বাংলা হাসপাতালের কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং এটিকে আমাদের ভালোভাবে চালাতেই হবে। এটি চালানোর জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে। জোর করে, প্রেসার দিয়ে, ডাক্তার-নার্সকে ভয় দেখালে, তারা তো আরও ভয় পেয়ে যায়, তারা ভুল করে। (ওষুধ) যেখানে যাওয়ার কথা ভেইনে (রক্তনালি), চলে যাবে মাসেলে (পেশি)।’

ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে পরিচালক বলেন, ‘গত তিন দিন আমার সঙ্গে উপদেষ্টাসহ সকলের সাথে কথা হয়েছে। তারা অত্যন্ত পজিটিভ। আমরা যে পরিমাণ আশ্বাস পেয়েছি ঊর্ধ্বতন মহল থেকে, আমি বিশ্বাস করি—অবশ্যই আমরা অন্য মেডিকেলের তুলনায় বেশি অ্যাডভান্টেজ পাব। ইতোমধ্যে চারজন চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। বিশেষ বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের একটা অংশও আমরা পাব। অক্টোবরের মধ্যে তাদের নিয়োগ হবে। ঊর্ধ্বতন মহল থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আমাদের একটু বেশি দেওয়া হবে। একই সাথে এই মাসেই প্রায় ৩২০০ নার্স নিয়োগ হবে। এখান থেকে আমরা একটা অংশ পাব।’

তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হবে। প্রায় দুই শতাধিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আর যন্ত্রপাতি ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া। গত বেশ কয়েক বছরে এখানে আসলে যন্ত্রপাতি ক্রয় হয়নি। এটি আমরা শুরু করেছি। ছোটখাটোগুলো আমরা কিনব। আর যেগুলো বড় যন্ত্রপাতি—এমআরআই, ক্যাথল্যাব—এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এর যে প্রসেস, তা এত লম্বা যে ছয়-সাত মাস লেগে যায়। আমাদেরকে তারা কথা দিয়েছেন—একটি ক্যাথল্যাব দিবেন, একটি এমআরআই দিবেন, একটি সিআর্ম দিবেন।’

পরিচালক বলেন, ‘আমাদের সেবায় এত অসন্তোষ কেন? এর অন্যতম কারণ হচ্ছে—আমাদের রোগীর ৬০-৭০% মেডিসিনের রোগী। কিন্তু এই রোগীগুলো যে ভবনে থাকে, সেখানে টয়লেটের অপ্রতুলতা, স্পেস নেই, ভেন্টিলেশন নেই—এসব সমস্যা। যদি আমরা মেডিসিন ডিভিশনটাকে অপর ভবনে নিতে পারি, তাহলে আমাদের সেবা অনেকখানি উন্নতি করবে। তাহলে আমাদের কেবিন ব্যবহার হবে, ল্যাব ব্যবহার বাড়বে, রেডিওলজি বিভাগের ব্যবহার বাড়বে, এতে সরকারের আয় বাড়বে, আর সবার উপরে ডাক্তার, নার্স আর রোগীদের স্যাটিসফিকশনটা বাড়বে।’

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে
প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত