১১ অগাস্ট, ২০২৫ ০৩:৪৯ পিএম

শেবাচিমে চিকিৎসার পরিবেশ গোয়ালঘরের চেয়েও খারাপ: মুফতি ফয়জুল করীম

শেবাচিমে চিকিৎসার পরিবেশ গোয়ালঘরের চেয়েও খারাপ: মুফতি ফয়জুল করীম
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দক্ষিণাঞ্চলে এমন আন্দোলন সৃষ্টি হবে, যে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পদত্যাগে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। 

রোববার (১০ আগস্ট) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নসহ তিন দফা দাবি নিয়ে বরিশালে ছাত্র-জনতার ব্লকেড কর্মসূচির ১৪তম দিনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিন দফা দাবি হলো—শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন; স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।

ব্লকেড কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ‘কেন আন্দোলন করতে হবে? এখানে কেন অবরোধ করতে হবে? মানুষকে দুর্ভোগ কেন পোহাতে হবে? আমরা চাই এখনই এই মুহূর্তে আমাদের যে দাবি-দাওয়া আছে, সে দাবি পূরণ করবেন।’

ফয়জুল করীম আরও বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এটা আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাস বহন করে। কিন্তু এখানে সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। পরিবেশও নেই। গোয়ালঘরের চেয়ে পরিবেশ খারাপ। ডাক্তার নেই, নার্সের অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট। এমনকি লাশ নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময়ও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতে হয়। ভর্তির সময় সিন্ডিকেট। ওষুধ নেওয়ার সময় সিন্ডিকেট, চিকিৎসার সময় সিন্ডিকেট, এক্সরের সময় সিন্ডিকেট, পরীক্ষার সময় সিন্ডিকেট।’

তিনি বলেন, আমাদের দাবি জনগণের উপকারের জন্য। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ করার দাবির আগে অবশ্যই আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন  ছাত্র-জনতা। এতে ঢাকার সঙ্গে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার সড়ক পথের যানবাহন ও যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পরে পুলিশ বিকল্প রুটে যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় ভোগান্তি কিছু কম হয়েছে বলে বাসচালকরা জানিয়েছেন।

এদিকে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন করার  হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক