২১ জুন, ২০২৫ ০৯:৪৭ পিএম

পাঁচ দফা বাস্তবায়নে অগ্রগতি চান ঢামেক শিক্ষার্থীরা, হল ত্যাগে অস্বীকৃতি

পাঁচ দফা বাস্তবায়নে অগ্রগতি চান ঢামেক শিক্ষার্থীরা, হল ত্যাগে অস্বীকৃতি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পাঁচ দফা দাবির দৃশ্যমাণ অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত হল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। কলেজ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে একতরফা আখ্যা দিয়ে পাল্টা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) ঢামেক কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন। এর পর পরই দুপুর দুইটার দিকে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে কে-৮১ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অস্থায়ী বিকল্প হিসেবে কলেজ প্রশাসন আমাদের যেসব কক্ষে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিয়েছে, এর অধিকাংশ জায়গায় বড় ভাইয়েরা অবস্থান করছেন। তাদের অনেকের প্রফেশনাল পরীক্ষা চলমান। ফলে তারা আমাদের জায়গা করে দিতে পারছেন না। এতে আমরাও সেসব জায়গায় স্থানান্তর হতে পারছি না। আর আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা হল ছাড়বো না।’

এর আগে সকাল থেকে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও আবাসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজের মিলন চত্বরে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

তারা জানান, সাত মাস আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনে এখনও তারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন, আর কর্তৃপক্ষ উদাসীন। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে চলমান এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।

অবস্থানকালে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব মোর্শেদ সিয়াম বলেন, ‘আমরা আসলে মৃত্যুঝুঁকিতে আছি, দুই-এক সেকেন্ডের ব্যবধানে জীবন বেঁচে যাচ্ছে। যেমন আমি যেখানে অবস্থান করছি বা দাঁড়িয়ে আছি, এখান থেকে সরে যাওয়ার দুই-এক সেকেন্ডের মধ্যে উপর থেকে পলেস্তারা, রড, ইট খুলে পড়ছে।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসসহ একাধিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে সাত মাস আগে ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসকে সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

একদিনের ক্ষোভে নয়, ধারাবাহিক উদ্বেগ ও সচেতনতার ভিত্তিতে এই আন্দোলনে নেমেছেন বলেও জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের জন্য দ্রুত বাজেট পাস।
২. আবাসন ব্যবস্থা নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের জন্য আলাদা বাজেট পাস করা।
৪. আবাসন ও একাডেমিক ভবনের বাজেট পৃথকভাবে অনুমোদন ও দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন।
৫. সব প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি শিক্ষার্থীদের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপনের জন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়োগ।

এরপর দুপুরে কলেজ প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হলত্যাগের নির্দেশ দেয়।

কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মেডিকেল কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে কলেজের এমবিবিএস ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সকল ছাত্রছাত্রীকে আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা হলো।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহকারী শিক্ষার্থী ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই আদেশের আওতামুক্ত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মূলত মেডিকেল কলেজের আবাসন ব্যবস্থার সংকট ও ঝুঁকিপূর্ণ হোস্টেল ভবন সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন ওরিয়েন্টেশন ক্লাসও বর্জন করেন নবাগত কে-৮২ ব্যাচ। আজ এসব দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ। এ অবস্থায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল কলেজ প্রশাসন।

এদিকে অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একাডেমিক কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম। জানান, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে কলেজ প্রশাসন। ইতোমধ্যে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও বলেন, ‘দৃশ্যমান ফলাফল প্রাপ্তির টাইমফ্রেম নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের যে অনড় অবস্থান রয়েছে, সেটিও আমরা অনুধাবন করি। উপরন্তু বারবার নোটিশ দেওয়া এবং বিকল্প আবাসন নিশ্চিত করা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাচের ছাত্রদের অসহযোগিতার কারণে ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসের মূল ভবনের গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত পরিত্যক্ত চতুর্থতলা খালি করা সম্ভব হচ্ছে না, যা তাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত হুমকি স্বরূপ।’

এর ধারাবাহিকতায় নতুন ব্যাচ কে-৮২ স্বপ্রণোদিত হয়ে অথবা প্ররোচিত হয়ে তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বয়কট করেছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যক্ষ বলেন, এটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের জন্য একটি কালো অধ্যায়। ফলে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের বিবেচনায় একাডেমিক পিয়ার প্রেসারে (পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় মানসিক চাপ) ভুগছে।

বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পরিদর্শন অন্য মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্বাস করে ছাত্র/ছাত্রীদের সহযোগিতায় এই সংকট কাটিয়ে উঠবে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত