জেন্ডার সহিংসতায় আক্রান্তদের সেবায় গোপনীয়তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গোপনীয়তা রক্ষা করে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (এসজিবিভি) শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী সেবা নিতে এলে ইনজুরি রেজিস্টারের পরিবর্তে জেনারেল রেজিস্টারে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। একই সাথে এসজিবিভি আক্রান্তদের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন করে ফোকাল পার্সন নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনি প্রয়োজনে সেবাদানকারী চিকিৎসকরা অডিও-ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষ্য দেওয়ারও সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের জেন্ডার, এনজিও অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার পার্টিসিপেশন ইউনিটের জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। গোপনীয়তা রক্ষা করে ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্য ও আইনিসেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে এই পরিপত্রে। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ শওকত হোসেন খান সই করেছেন।
গত বছরের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে জেন্ডার, এনজিও অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার পার্টিসিপেশন ইউনিট থেকে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই এবং ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি জেন্ডারজনিত সহিংসতায় করণীয় সম্পর্কে দুটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল।
পরিপত্রে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এসজিবিভি বিষয়ক এক ফোকাল পার্সন নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি অথবা গাইনি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স অথবা পেডিয়ার্টিক বিভাগের আবাসিক সার্জন, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কো-অর্ডিনেটর, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (এমসিডাব্লিউসি) মেডিকেল অফিসারকে (ক্লিনিক) ফোকাল পার্সন হবেন। আর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এমসিএইচটিআই), মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (এমএফএসটিসি) ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র বা সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু/গাইনি) হবেন ফোকাল পার্সন। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একজন ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, এসজিবিভি সার্ভাইভার কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সেবা নিতে এলে ইনজুরি রেজিস্টারের পরিবর্তে জেনারেল রেজিস্টারে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টে পুলিশ সিল দেওয়া যাবে না। পুলিশ বিভাগকে অবহিত করতে অনুমোদিত নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। ফোকাল পার্সনরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত ও হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদিত মেডিকেল রিপোর্ট অ্যান্ড এক্সামিনেশন ফরম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হলে এসজিবিভি সার্ভাইভারের রেফারেল স্লিপ বা ছাড়পত্রের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি বা আউটডোর টিকেট সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ মেডিকেল রিপোর্ট অ্যান্ড এক্সামিনেশন ফরম বিবেচনায় নিতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, এসজিবিভি সার্ভাইভারের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের কপি পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রধান বরাবর প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বয়স নির্ধারণে রেডিওলজিক্যাল ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য এসজিবিভি সার্ভাইরারের ছবি সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক সত্যায়ন করবেন।
তবে এসজিবিভি সার্ভাইভার আইনি প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হতে রাজি না হলে মেডিকোলিগ্যাল পরীক্ষার অংশ হিসেবে সংরক্ষিত বা সংগৃহীত নমুনা তিন মাস পর বিনষ্ট করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয় পরিপত্রে। এতে বলা হয়, নমুনা বিনষ্টকরণের তথ্য অবশ্যই ফরেনসিক নমুনা বিনষ্টকরণ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত নমুনা বিনষ্টকরণ কমিটির মাধ্যমে তা বিনষ্ট করতে হবে।
২০২৩ সালের ২০ আগস্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজ্ঞপ্তির তথ্য উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, সেবা প্রদানকারী চিকিৎসকরা সাক্ষী হিসেবে অডিও-ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া এসজিবিভি সার্বাইভারের যথোপযুক্ত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভার আলোচ্যসূচিতে নিয়মিতভাবে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে পরিপত্রে।
এনএআর/
-
১৫ মে, ২০২৬
-
২৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
০২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৪ নভেম্বর, ২০২৩
-
২১ নভেম্বর, ২০২৩
-
১৩ নভেম্বর, ২০২৩